Bangla Jago Desk: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে এবার সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। প্রথম ধাপে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া থাকা ডিএ-র টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
নবান্নের অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর, গত শুক্রবার থেকেই এই বকেয়া টাকা সরাসরি অবসরপ্রাপ্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এই আবহে আগামী সোমবার নবান্নে ডিএ আন্দোলনকারী যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় বর্তমানে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এখনই কোনও বকেয়া টাকা পাচ্ছেন না। আপাতত শুধুমাত্র অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদেরই এই বকেয়া মেটানো হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থ ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় দফায় ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হলো। ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু হলেও কলকাতা পুরসভা (KMC) এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা এখনই এই সুবিধা পাচ্ছেন না। নবান্ন সূত্রের খবর, এর পিছনে কিছু প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে: কলকাতার বাইরে রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত জেলায় যেখানে সরকারি কর্মীরা 'ট্রেজারি' (Treasury)-র মাধ্যমে নিয়মিত পেনশন পান, সেখানে তথ্য সংগ্রহের কোনও সমস্যা হয়নি। ট্রেজারির কাছে সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য এবং কে কত টাকা পাবেন তার নিখুঁত হিসাব আগে থেকেই তৈরি ছিল। ফলে জেলাগুলিতে টাকা দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
কলকাতা পুরসভা এলাকার অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন হয় মূলত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। এই পেনশনভোগীদের বিস্তারিত তথ্য 'এজি বেঙ্গল' (AG Bengal)-এর কাছ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আসার কথা। সেই তথ্য পাওয়ার কাজ শুরু হলেও কিছু জটিলতার কারণে তা এখনও সম্পূর্ণ করা যায়নি। ফলে কলকাতার অবসরপ্রাপ্তদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজ্য সরকার পরিচালিত নিগম বা সংস্থাগুলির (Government Undertakings) কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়ার পরিমাণ কত, কারা কত টাকা পাবেন— সেই সংক্রান্ত ডাটা বা তথ্য সংগ্রহের কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালাচ্ছে অর্থ দপ্তর। এই তথ্য চূড়ান্ত হলেই তাঁদেরও বকেয়া মেটানো হবে। আদালতের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্তদের ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও কর্মরতদের বকেয়া এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন এখনও জারি রয়েছে। এই আবহে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ডিএ আন্দোলনকারীদের নবান্নের বৈঠকটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। মনে করা হচ্ছে, কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ জট কাটাতে এবং বকেয়া মেটানোর রোডম্যাপ তৈরি করতে এই বৈঠকে বেশ কিছু বড় ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

