Bangla Jago Desk: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক কিশোরীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা এবং উত্তেজিত জনতা এক যুবককে পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে—নাবালিকা খুন, যুবককে পিটিয়ে খুন এবং পুলিশের ওপর হামলা। ঘটনার পর রবিবারই প্রথম অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাকে সোমবার বারুইপুর আদালতে হাজির করার কথা। এরপর বাকিদের খোঁজে রাতভর পুলিশি অভিযান চালিয়ে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনই এই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। রবিবার রাতেই নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং ধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে, আর সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও মামলা রুজু করা হবে। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রবিবারই নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘটনার যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি কিশোরীর বাবাকে মঙ্গলবার ভবানীভবনে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরে যেতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে 'আটকানোর' জন্যই এই পুলিশি ঘেরাটোপ তৈরি করা হয়। তবে রবিবার রাতে নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফোনে নিহতের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

