Bangla Jago Desk: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সোমবার, ৪ মে, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণের দিন। ঠিক তার আগে রবিবার সন্ধেয় কালীঘাটের বাসভবনে জরুরি তলব করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনার ঠিক প্রাক্কালে ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা নিয়ে রণকৌশল স্থির করতেই এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক।
সূত্রের খবর, এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ভবানীপুর এখন রাজ্যের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র।
কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে থাকবেন ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার ৮ জন কাউন্সিলর, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি এবং মুখ্য নির্বাচনী এজেন্ট। এছাড়া দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট গণনার সময় এজেন্টরা কীভাবে সক্রিয় থাকবেন, কারচুপি রুখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা হবে, মূলত এই পাঠ দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ফের কর্মীদের সাথে বসছেন।
ভবানীপুর কেন্দ্রটি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার 'প্রেস্টিজ ফাইট'। একদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের সেই ২০২১ সালের স্মৃতি এখনও টাটকা। লোডশেডিং, গণনায় কারচুপি এবং ফলাফল নিয়ে সেই নাটকীয় টানাপোড়েন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জয়ী হিসেবে ঘোষণা হয়েও শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হয়েছিলেন। এবার ভবানীপুরে সেই দুই হেভিওয়েট প্রতিপক্ষই মুখোমুখি। তাই পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তৃণমূল নেত্রী কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
ভবানীপুরের প্রতিটি রাউন্ডের গণনা কীভাবে নজরদারি করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হতে পারে এই বৈঠক থেকে। কমিশনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও তৃণমূল সুপ্রিমো নিজের দলের কর্মীদের ওপর ভরসা রেখে স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে 'চৌকিদারি' করতে চাইছেন। ৪ মে-র সকাল থেকে ভবানীপুরের ইভিএম খোলা শুরু হতেই কি নন্দীগ্রামের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, নাকি ভবানীপুর নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ লিখে দেবে? গোটা রাজ্যের নজর এখন সেই উত্তপ্ত ভবানীপুরের দিকেই। কালিঘাটের এই বৈঠক যে গণনার সকালে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বড় ভূমিকা নেবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

