Bangla Jago Desk: দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙড় এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল লালবাজার। শুক্রবার কলকাতা পুলিশে বিভিন্ন পদের মোট ২৭৩ জন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকের এক ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। এই রদবদলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বদলি হওয়া কর্মীদের মধ্যে এক ধাক্কায় ৬৭ জনকেই পাঠানো হয়েছে ভাঙড় ডিভিশনের বিভিন্ন থানায়।
এই তালিকায় যেমন রয়েছে একাধিক পদের পুলিশকর্মী, তেমনই রয়েছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ঘনিষ্ঠ বিতর্কিত পুলিশ আধিকারিক রুহুল আমিন আলি শা।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে ভাঙড় অত্যন্ত বড় এবং সংবেদনশীল এলাকা। গোটা ভাঙড় ডিভিশনের অধীনে মোট ৬টি থানা রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় সেখানে পুলিশি পরিকাঠামো ও বাহিনীর সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। এই খামতি মেটাতেই লালবাজারের তরফে ভাঙড় ডিভিশনকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বদলি হওয়া ৩৪ জন সাব ইন্সপেক্টরের (SI) মধ্যে ১১ জনকে পাঠানো হয়েছে ভাঙড়ে।
৬২ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টরের (ASI) মধ্যে ১৭ জনকে এই ডিভিশনে বদলি করা হয়েছে।
৭ জন মহিলা এএসআই-এর মধ্যে ১ জন এবং ১৭ জন মহিলা কনস্টেবলের মধ্যে ১ জন ভাঙড়ে যাচ্ছেন।
১১১ জন কনস্টেবলের মধ্যে এক ধাক্কায় ৩৭ জনকে পাঠানো হয়েছে ভাঙড় ডিভিশনের বিভিন্ন থানায়।
চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত ৩ জন পুলিশ চালকের মধ্যে ১ জনকে ভাঙড়ে বদলি করা হয়েছে।
লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, ভাঙড়ে পুলিশি ঘাটতি মেটাতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ডিভিশনে বাহিনীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। এদিনের বদলির তালিকায় সবচেয়ে চর্চিত নামটি হল সাব ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন আলি শা-এর। তিনি কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ারের আহ্বায়ক ছিলেন এবং এতদিন হেড কোয়ার্টার ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, হেড কোয়ার্টারে পোস্টিং থাকলেও তিনি মূলত তৎকালীন শীর্ষ পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নির্দেশে ওয়েলফেয়ারের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।
সম্প্রতি সোনা পাপ্পুর তোলাবাজি, জমি দখল এবং অস্ত্র আইনের মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর হাতে গ্রেপ্তার হন পুলিশ ওয়েলফেয়ারের শীর্ষ কর্মকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। সেই তদন্তেই শান্তনুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে রুহুল আমিনের নাম জড়ায় এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বাড়িতে তল্লাশিও চালায়। শুক্রবার প্রকাশিত রদবদলের তালিকার শীর্ষেই রয়েছে এই রুহুল আমিনের নাম। লালবাজার সূত্রের খবর, শুধু রুহুল আমিনই নন, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ এবং ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে যুক্ত বহু পুলিশকর্মী ও আধিকারিককে কলকাতা পুলিশের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়ন করে রাখা হয়েছিল। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে তাঁদের মূল কাজই ছিল শান্তনু ও রুহুলের নির্দেশে ওয়েলফেয়ারের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। এবার সেই বলয় ভাঙতে কড়া অবস্থান নিল লালবাজার। ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকা সেই সমস্ত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের এবার বিভিন্ন ডিভিশনের থানায় সরাসরি জননিরাপত্তার কাজে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিকের প্রভাব খর্ব করা গেল, তেমনই থানাগুলিতে পুলিশকর্মীর অভাবও অনেকটাই মিটবে বলে মনে করছে লালবাজার।

