Bangla Jago Desk: ভোটের ধকল মিটতে না মিটতেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিল অটো-এলপিজির আকাশছোঁয়া দাম। ১ মে থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন হার, যেখানে লিটারপিছু জ্বালানির দাম একধাক্কায় ৬ টাকা ৪৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যে গ্যাসের দাম ছিল ৮২ টাকা ৯৬ পয়সা, শুক্রবার থেকে তা কিনতে হচ্ছে ৮৯ টাকা ৪০ পয়সায়।
পরিসংখ্যান বলছে, বছরের শুরু থেকে ধরলে মাত্র পাঁচ মাসেই অটো-এলপিজির দাম ধাপে ধাপে লিটারে প্রায় ৩৭ টাকা ৭৫ পয়সা বেড়েছে।
জানুয়ারি মাসে যেখানে এক লিটার গ্যাসের দাম ছিল মাত্র ৫১ টাকা ৬৫ পয়সা, সেখানে কয়েক মাসের ব্যবধানে তা ৯০ টাকার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে যাত্রী ও চালক উভয়েরই। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসেও কয়েক দফায় দাম বেড়েছিল। এপ্রিলের শুরুতে বড়সড় বৃদ্ধির পর ভোটের পুরো মাস দাম স্থির থাকলেও, নির্বাচন পর্ব শেষ হতেই ফের মূল্যবৃদ্ধির খাঁড়া নামল এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ওপর।
জ্বালানির এই অগ্নিমূল্য স্বভাবতই প্রভাব ফেলতে চলেছে অটোর ভাড়ার ওপর। নিত্যযাত্রীদের আশঙ্কা, নতুন করে ভাড়া বাড়লে যাতায়াতের খরচ নাগালের বাইরে চলে যাবে। যেমন সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিসযাত্রী ঋষভ পাল জানালেন, এখনই রাতের দিকে অনেক রুটে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। এর ওপর যদি সরকারিভাবে ফের ভাড়া বাড়ে, তবে বাসের ভিড়ে ঠেলাঠেলি করা ছাড়া মধ্যবিত্তের আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
অন্যদিকে, চরম সঙ্কটে পড়েছেন খোদ অটোচালকরাও। তাঁদের মতে, জ্বালানির দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে গাড়ি রাস্তায় নামানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অটোর ভাড়া বাড়ালে যেমন যাত্রী হারানোর ভয় থাকছে, তেমনি বর্তমান দামে গ্যাস কিনে পুরনো ভাড়ায় চালালে দিনের শেষে ভাঁড়ার থাকছে শূন্য। যাত্রী এবং চালক—উভয় পক্ষই এখন দিশেহারা, কারণ এই মূল্যবৃদ্ধির চেইন রিঅ্যাকশন শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকেই তছনছ করে দিচ্ছে।

