গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সকাল হতেই শুরু হয়েছে দৌড়াদৌড়ি—এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তর, এক লাইনের পর আরেক লাইন। ক্যানিং মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে মঙ্গলবার যেন তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ম্যারাথনের ছবি। তবে এই দৌড় কোনও পুরস্কারের জন্য নয়, নিজের নামটা ভোটার তালিকায় নিশ্চিত করার লড়াই।
গতকাল ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দেওয়ার পর আজ সেই নাম তালিকায় উঠেছে কিনা তা দেখতে ভোর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন হাজার হাজার মানুষ। তালিকা টাঙানোর অপেক্ষায় রোদে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের মুখে একটাই প্রশ্ন—'নামটা উঠল তো?' কারও নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, কারও আবার এখনও অনিশ্চিত—এই আশঙ্কাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
ফলে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে দৌড়—কখনও তথ্য জানার জন্য, কখনও কাগজ যাচাইয়ের জন্য, আবার কখনও শুধুই লাইনে নিজের জায়গা ধরে রাখার জন্য। প্রখর রোদ উপেক্ষা করেও থামেনি এই দৌড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কেউ লাইনের বাইরে যাচ্ছেন না, কারণ এই লড়াই তাদের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। যেন প্রত্যেকেই নিজের নিজের ম্যারাথনে দৌড়চ্ছেন—শেষ গন্তব্য একটাই, ভোটার তালিকায় নিজের নাম।
এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ১৩৮ নম্বর ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী পরেশ রামদাস এবং সাংসদ প্রতিমা মন্ডল। তারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানান, যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে এবং কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি তারা রাজনৈতিকভাবে বলেন, মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং এই বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নেবে। তবে আশ্বাসের মাঝেও থামেনি দৌড়—কারণ সাধারণ মানুষের কাছে এখন একটাই লক্ষ্য, যেভাবেই হোক ভোটার তালিকায় নিজের নাম নিশ্চিত করা।

