Bangla Jago Desk: রাজ্য বিধানসভায় স্পিকার হিসাবে শপথ নিয়েছেন রথীন্দ্র বসু। তাঁর এক হাত মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, অন্য হাত বিরোধী দলনেতার - বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সৌজন্যের এই ছবি দেখেছে সারা বাংলা। শপথ গ্রহণের পর নতুন স্পিকারকে তাঁর চেয়ারে পৌঁছে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
স্পিকার রথীন্দ্র বসু শাসকদল ও বিরোধী দলের সদস্যদের আগামী পাঁচ বছর সৌহার্দ্য বজায় রেখে এগিয়ে চলার বার্তা দেন। বিধানসভার যে গড়িমা তা যাতে অটুট থাকে সবপক্ষকে সে কথা মাথায় রাখতে হবে। নতুন স্পিকারকে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা হাত ধরে চেয়ারে বসিয়েছেন। শাসকদল এবং বিরোধীদলের আলোচনা যেন বাংলার উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা নেয় তা মাথায় রাখতে হবে বিধায়কদের। গণতন্ত্রের পীঠস্থান হল বিধানসভা। যাঁরা নির্বাচিত হয়ে সেখানে পা রেখেছেন তাঁদেরও দায়িত্ব নিজের এলাকার কথা তুলে ধরা। এলাকার উন্নয়নে বিধায়কদের আরও তৎপর থাকতে হবে।
অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, মানুষের স্বার্থে কাজ করতে হবে। তবেই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বিধানসভা, দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বিধায়কদের ভূমিকা। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিতর্ক চলবে তবে তা যেন সুস্থভাবে হয়। সরকারের ভুল ত্রুটি যেমন বিরোধীদের তুলে ধরার দায়িত্ব ঠিক একই রকম ভাবে বিরোধীদের আবেদন যথার্থভাবে পালন করাও সরকারের দায়িত্ব। সরকারপক্ষ এবং বিরোধী পক্ষ একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বিধানসভা পরিচালিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন মানুষ। সেখানে অকারনে হট্টগোল নয়, চিৎকার চেঁচামেচি নয়, যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বজায় থাকুক শালীনতা। সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকবে, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কাজ সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আদায় করে আনবেন বিধায়ক। সেখানে থাকবে না রাজনৈতিক দলাদলি, থাকবে না লড়াই। লক্ষ্য থাকবে উন্নয়ন এবং সুস্থ পরিবেশ। যে সৌজন্যে ছবি বিধানসভায় ধরা পড়েছে আগামী দিনেও যেন সেই সৌজন্যই বারবার ফিরে ফিরে আসে।

