রঞ্জন মাইতি, এগরা: ভোটের ফল ঘোষণার আগের মুহূর্তগুলোতে উত্তেজনা কিছুতেই কমছে না জঙ্গলমহলে। এবার পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এগরায় স্ট্রং রুমের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। এগরা থানার আইসি সুশান্ত চট্টপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন পটাশপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী পীযুষকান্তি পন্ডা এবং তাঁর কয়েকশ সমর্থক।
পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত মহকুমা শাসক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠি উঁচিয়ে আসরে নামতে হয়।
তৃণমূল প্রার্থী পীযুষকান্তি পন্ডার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি, এগরা থানার আইসি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পটাশপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতিকে স্ট্রং রুমের ভেতরে নিয়ে যান। তাঁর বক্তব্য, যেখানে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রধান দায়িত্ব, সেখানে পুলিশের এক প্রার্থীর প্রতি এই 'বিশেষ আনুকূল্য' গোটা প্রক্রিয়ার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিচ্ছে।
এই খবর চাউর হতেই তৃণমূল প্রার্থী পীযুষকান্তি পন্ডা এবং তাঁর উত্তেজিত সমর্থকরা আইসি-কে ঘিরে ধরে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁর অপসারণের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন কর্মীরা। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে স্ট্রং রুম সংলগ্ন চত্বর। উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এগরা মহকুমা শাসক মঞ্জিত যাদব। তিনি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
পরিস্থিতি চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে অবশেষে মাঠে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ট্রং রুমের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে ওই এলাকা থেকে না সরালে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভোটের ফল বেরোনোর আগে এই ধরণের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কিছুটা উত্তপ্ত করে তুলল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

