Bangla Jago Desk: ভোট গণনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে রবিবার সকালে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভবানীপুরের শাখাওয়াত মেমোরিয়াল চত্বর। স্ট্রংরুমের বাইরে ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও এবং পুলিশের কড়া প্রহরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি বহিরাগত গাড়ি সরাসরি স্ট্রংরুমের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল? এই প্রশ্ন তুলেই রবিবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে উঠল গণনাকেন্দ্রের বাইরে।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং গাফিলতির অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
অভিযোগ, রবিবার সকালের দিকে আচমকাই একটি স্করপিও গাড়ি শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই গাড়ির গায়ে 'এক্স আর্মি'র স্টিকার সাঁটানো ছিল এবং তাতে বিজেপির পতাকা ও লোগোও ছিল। গাড়িটি থামার পর এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে সোজা স্ট্রংরুমের ভেতরে প্রবেশ করেন। এই ঘটনা দেখার পরেই সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়ায়।
তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন, স্ট্রংরুমের ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় যখন ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে এবং সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নেই, তখন পুলিশি নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে ওই গাড়ি ভেতরে ঢুকে পড়ল? তৃণমূলের দাবি, পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও তারা কোনও বাধা দেয়নি। এই বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের তুমুল বচসা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নতুন করে তৎপর হতে হয়।
প্রসঙ্গত, ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাতে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালেই প্রায় ৪ ঘণ্টা পাহারায় ছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকেই এখানে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। কিন্তু গণনার ঠিক আগের দিন এই 'নিরাপত্তা গাফিলতি' তৃণমূলের সেই সন্দেহের আগুনকে আরও বাড়িয়ে দিল। শাসকদলের প্রশ্ন, কমিশনের এত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি কি তবে নিছকই লোক দেখানো? বহিরাগতরা যদি সহজেই স্ট্রংরুমের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে, তবে গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় কীভাবে?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণনার ঠিক আগের রাতে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হল। পুলিশ প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তবে বিরোধীরা এই অভিযোগকে 'হেরে যাওয়ার ভয়ে তৃণমূলের নাটক' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত গোটা চত্বরে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

