Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর রাজ্যে যখন দুর্নীতি দমনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই বীরভূমে এক প্রভাবশালী বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার করল পুলিশ। 'জিরো টলারেন্স' নীতিকে সামনে রেখে শুক্রবার রাতে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশ সোহেল শেখ, লবান শেখ ও শামিম শেখের যৌথ বাসভবনে এক আকস্মিক তল্লাশি অভিযান চালায়।
অভিযান শুরু হতেই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠে। ওই বাড়ি ও সংলগ্ন অফিস থেকে বান্ডিল বান্ডিল নোটের পাহাড় উদ্ধার হয়, যার মোট পরিমাণ ৪৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৫০২ গ্রাম ওজনের বিপুল পরিমাণ সোনার গয়নাও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। নগদ এত টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনার উৎসের কোনও বৈধ নথি দেখাতে না পারায় পুলিশ শামিম শেখ নামে ওই বালি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শামিম শেখ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই বীরভূমের বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা এবং তা পাচারের পিছনে তৃণমূলের তৈরি 'সিন্ডিকেট রাজ' সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ। মোটা টাকার বিনিময়ে এই বালিঘাটগুলি পরিচালনা করা হতো এবং ধৃত শামিম শেখ ও তাঁর ভাইয়েরা এই বেআইনি বালি ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বালি ব্যবসার পাশাপাশি তাঁদের একটি রাস্তা তৈরির ঠিকাদারি সংস্থাও রয়েছে, যা ব্যবহার করে সরকারি তহবিলের টাকা নয়ছয় করা হতো বলে প্রাথমিক অনুমান। বর্তমানে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ীকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই সিন্ডিকেটের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানার জন্য ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দুর্নীতি ও তোলাবাজির ইস্যুতে কোনও রকম আপস করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া নির্দেশের পর থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বীরভূম জুড়ে অবৈধ বালি খাদান ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। প্রশাসনের এই লাগাতার নজরদারি ও কড়া পদক্ষেপের জেরে জেলাজুড়ে বেআইনি বালি পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। মহম্মদবাজারের এই মেগা অভিযান ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তারি মূলত সেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানেরই অংশ। এই ঘটনার পর জেলার বেআইনি বালি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য রাঘববোয়ালদের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

