Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
চণ্ডীতলায় আক্রান্ত কল্যাণ, শ্রীরামপুরের বাড়িতে দেখতে গেলেন মমতা

চণ্ডীতলায় আক্রান্ত কল্যাণ, শ্রীরামপুরের বাড়িতে দেখতে গেলেন মমতা

Bangla Jago TV 1 week ago

Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর রাজনৈতিক হিংসার আগুন যেন কিছুতেই নিভছে না। শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনরোষের মুখে পড়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে, এবার হুগলির চণ্ডীতলায় মারাত্মক হামলার শিকার হলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার সকালে সোনারপুরের ঘটনার প্রতিবাদে এবং চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাওয়ার পথে সাংসদের ওপর আছড়ে পড়ে তীব্র জনরোষ। চণ্ডীতলা থানা থেকে মাত্র ঢিলছোড়া দূরত্বে একদল উত্তেজিত জনতা সাংসদের ওপর চড়াও হয়। ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় পড়ে যান কল্যাণবাবু। এই ঘটনার পরেই জখম সাংসদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে সরাসরি তাঁর বাড়িতে ছুটে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল চণ্ডীতলা থানার দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ই একদল বিক্ষোভকারী সাংসদের পথ আটকে প্রথমে কালো পতাকা দেখাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ থেকে 'চোর চোর' স্লোগান উঠতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যখন বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে কল্যাণবাবুকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট ও পাটকেল ছোঁড়া শুরু হয়। একটি ভারী ইটের টুকরো সরাসরি সাংসদের মাথায় এসে লাগে। রক্তারক্তি অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে পিচের রাস্তায় পড়ে যান তিনি।

সাংসদ মাটিতে পড়ে যেতেই চণ্ডীতলা থানা চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচাতে এবং উত্তেজিত জনতাকে প্রতিহত করতে পাল্টা ঝাঁপিয়ে পড়েন উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা। দু'পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে দলীয় কর্মীরা রক্তাক্ত সাংসদকে উদ্ধার করে দ্রুত প্রাথমিক শুশ্রূষার ব্যবস্থা করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর ক্ষোভে ও বেদনায় ফেটে পড়েন শ্রীরামপুরের সাংসদ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, 'এই বাংলায় আর কোনও গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। গোটা বাংলা এখন গুণ্ডাদের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছে। এ দেশে খোদ সাংসদরাই যদি এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় আক্রান্ত ও রক্তাক্ত হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? বাংলার মানুষের কাছে আমার একটাই আবেদন, আপনারা সবাই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন এবং তীব্র প্রতিবাদ করুন।'

সোনারপুরের পর চণ্ডীতলার এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নবান্ন তথা কালীঘাটের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পর পর দু'দিনে দলের দুই শীর্ষস্তরের সাংসদ যেভাবে আক্রান্ত হলেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলেই তিনি সরাসরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কল্যাণের শারীরিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেন। এই ঘটনার পর থেকে হুগলি জেলা জুড়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Bangla Jago TV