Bangla Jago Desk: রাত পোহালেই ৪ মে, সোমবার। গোটা দেশের নজর এখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। তৃণমূল সরকারের প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন? সেই উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যবাসী। আর এই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকার মুহূর্তে, খোদ উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে এক বিস্ফোরক টুইট করলেন।
তাঁর এই ভবিষ্যদ্বাণী রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে (পূর্বতন টুইটার) অখিলেশ যাদব লিখেছেন, 'দিদি আছেন, দিদিই থাকবেন।' অখিলেশ শুধু এখানেই থেমে থাকেননি, তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৩৪টি আসন জিতে বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে।
কেন বিজেপির হার নিশ্চিত? এই প্রশ্নের উত্তরে অখিলেশ একহাত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকেও। অখিলেশের কথায়, 'রাজ্যে ১৬৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগই প্রমাণ করে যে, বিজেপি এখন নির্বাচন কমিশনকেও আর ভরসা করতে পারছে না। তাদের হার এখন সময়ের অপেক্ষা।' নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার মুখেও তৃণমূলের এই জয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করেন সমাজবাদী পার্টির এই নেতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অখিলেশ যাদবের এই সমর্থন অবশ্য নতুন কিছু নয়। মমতা-অখিলেশের রাজনৈতিক সখ্যতা বহু পুরনো। একসময় মমতার সঙ্গে অখিলেশের বাবা মুলায়ম সিং যাদবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্কের উত্তরাধিকার বহন করে অখিলেশও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেছেন। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের সময়ও তৃণমূল সুপ্রিমো লখনউয়ে গিয়ে অখিলেশকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। আবার বাংলার ভোটের সময়ও অখিলেশ প্রতি পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছেন। গত লোকসভা ভোটের আগে 'ইন্ডিয়া' জোট গঠনের পর এই বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।
ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক আগের মুহূর্তে অখিলেশ যাদবের এই বার্তা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'বাঘিনী' বলে সম্বোধন করে অখিলেশের এই আগাম শুভেচ্ছা কি সত্যি হবে? ২৩৪ আসনের সেই ম্যাজিক ফিগার কি তৃণমূল ছুঁতে পারবে? সোমবার দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে সব সমীকরণ। তবে অখিলেশের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা যে বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি বাড়াল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

