Bangla Jago Desk: হজ যাত্রার ঠিক প্রাক্কালে নতুন করে বাড়তি ১০ হাজার টাকার বোঝা চাপাল কেন্দ্র, যা নিয়ে দেশজুড়ে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছর হজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পুণ্যার্থীকে অতিরিক্ত এই অর্থ জমা দিতে হবে।
১৫ মে-র মধ্যে এই টাকা মেটানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা বহু যাত্রীর কাছেই চরম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক স্তরে বিমানের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় হজ যাত্রার খরচ বৃদ্ধি পাওয়া অনিবার্য ছিল। মন্ত্রী জানান, বিমান সংস্থাগুলি মূলত যাত্রী প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার অতিরিক্ত দাবি করেছিল, কিন্তু কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের ফলে সেই অঙ্ক ১০০ ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে কেন্দ্রের এই সাফাই মানতে নারাজ বিরোধী দল ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, শেষ মুহূর্তে এই বাড়তি টাকা দাবি করা পুণ্যার্থীদের সঙ্গে চূড়ান্ত অবিচার। আগে থেকে পরিকল্পনা না করে হঠাৎ করে কেন সাধারণ মানুষের ওপর এই বোঝা চাপানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। জমিয়েত উলেমায়ে হিন্দের মতো সংগঠনগুলিও এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, অনেকে সারাজীবনের জমানো পুঁজিতে তীর্থযাত্রার স্বপ্ন দেখেন; এই আকস্মিক ঘোষণা তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনেও সমালোচনা করছেন। তাঁদের মতে, মুঘল আমলে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ওপর যেভাবে 'জিজিয়া' কর বসানো হয়েছিল, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ যেন আধুনিক ভারতে মুসলিম পুণ্যার্থীদের ক্ষেত্রে সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের দোহাই দিলেও, হজের ঠিক আগে এই আকস্মিক অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত এখন জাতীয় রাজনীতির ময়দানে নতুন বিতর্কের রসদ জুগিয়েছে।

