Bangla Jago Desk: মধ্যপ্রদেশে নর্মদা নদীর বার্গি বাঁধ এলাকায় ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল কমপক্ষে ৯ জনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন পর্যটক। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র লোধী এবং বিজেপি বিধায়ক আশিস দুবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে জবলপুরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বার্গি বাঁধে একটি প্রমোদতরীতে ২৯ জন পর্যটক ওঠেন। নৌকাটি নর্মদার মাঝ বরাবর পৌঁছতেই হঠাৎ ঝড় ও প্রবল হাওয়া শুরু হয়। নদীতে ঢেউ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং জল উথালপাথাল হয়ে ওঠে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঝড়ের তীব্রতা দেখে পার থেকে বারবার নৌকার চালককে সতর্ক করা হয়েছিল। নৌকাটিকে দ্রুত ঘাটে ফিরিয়ে আনার অনুরোধও করা হয়। কিন্তু ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই একসময় ক্রুজটি একদিকে কাত হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই জলে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দড়ির সাহায্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, সব যাত্রীকে লাইফজ্যাকেট দেওয়া হয়নি। অনেকেই লাইফজ্যাকেট না থাকায় জলে ভেসে থাকতে পারেননি। আবার অনেকে লাইফজ্যাকেট পরলেও নৌকার ভিতরে আটকে পড়েন, কারণ ক্রুজটির ছাদ ধীরে ধীরে জলের নীচে চলে যায়।
এই দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়দেরও কাঁদিয়ে দিয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানান, এক মহিলা তাঁর চার বছরের সন্তানকে লাইফজ্যাকেটের ভিতরে ঢুকিয়ে বুকের কাছে চেপে ধরে রেখেছিলেন। নৌকা ডুবে যাওয়ার সময়ও শিশুটিকে আগলে রাখেন তিনি। শুক্রবার সকালে যখন মা ও সন্তানের দেহ উদ্ধার হয়, দেখা যায়, শিশুটিকে আগলে ধরা মায়ের হাত একটুও আলগা হয়নি।
স্থানীয়দের কথায়, এই দৃশ্য কোনওদিন ভোলা যাবে না। সেই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র লোধীও। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)-সহ একাধিক উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার অভিযান চলেছে দীর্ঘক্ষণ। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে, নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান এখনও জারি।

