রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: ভোটের আবহে শান্তি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে 'ড্রাই ডে'। সোমবার বিকেল থেকেই হুগলি জেলা-সহ বিভিন্ন প্রান্তে মদের দোকান ও পানশালায় ঝুলেছে তালা। কিন্তু কমিশনের এই কড়া নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উত্তরপাড়ায় চলল মদের কালোবাজারি।
উত্তরপাড়া স্টেশন সংলগ্ন রবীন্দ্র সুপার মার্কেটের ভেতরে একটি দোকানে রীতিমতো রমরমিয়ে চলল বেআইনি মদ বিক্রি। শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা পৌঁছতেই পর্দাফাঁস হল এই চক্রের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই মার্কেটের ভেতরের একটি দোকানে গোপনে বেআইনি মদের কারবার চলত। এদিন বিকেলে যখন জেলার সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তখন সেখানে দেখা গেল উলটো ছবি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ক্যামেরা নিয়ে পৌঁছতেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান দোকানদার। তড়িঘড়ি দোকানের শাটার নামিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন তিনি। এই ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় বসে বছরের পর বছর এই বেআইনি কারবার চললেও আগে সেভাবে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তবে এবার ভোটের মুখে খোদ কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে এমন কাণ্ড ঘটায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'বেআইনিভাবে যারা মদ বিক্রি করছিল, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত দোকানদারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, প্রথম দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই কোনওভাবেই মদ বিক্রি করা যাবে না। বিশেষ করে উত্তরপাড়া-সহ সংলগ্ন এলাকায় যেখানে ২৩ তারিখ ভোট, সেখানে এই ধরনের বেআইনি কারবার ভোট-প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চড়া দামে মদ বিক্রির লক্ষ্যেই এই গোপন স্টক মজুত করা হয়েছিল। আপাতত ওই এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

