Bangla Jago Desk: নিট (NEET) এবং এসএসসি (SSC GD) পরীক্ষার পর এবার আরও একটি বড়সড় সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চরম বিভ্রাট ও অব্যবস্থার ছবি সামনে এল। শনিবার দেশজুড়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা CUET UG (Common University Entrance Test) ছিল।
কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেও চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হল লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে। একেবারে শেষ মুহূর্তে 'যান্ত্রিক ত্রুটি'র অজুহাত দিয়ে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। কেন বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থার পরিচালিত পরীক্ষায় এমন বিপর্যয় ঘটছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির।
পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনে শনিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) তরফে জানানো হয়, অনলাইন পরীক্ষার মূল কেন্দ্র টিসিএস (TCS)-এর সিস্টেমে কিছু বড়সড় 'যান্ত্রিক ত্রুটি' ধরা পড়েছে। আর এই ত্রুটির জেরেই পিছিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষা। সকাল ৯টা থেকে যে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল, দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং যান্ত্রিক গোলযোগ মেরামতের পর ছাত্রছাত্রীরা বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি পান। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর অবশেষে তাঁরা পরীক্ষায় বসেন। সকালের এই নজিরবিহীন বিভ্রাটের জেরে দুপুরের শিফটের পরীক্ষাও পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় এনটিএ। দুপুরের পরীক্ষা ৩টের পরিবর্তে বিকেল ৪টে থেকে শুরু হবে বলে জানানো হয়। পরীক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের জেরে একাধিক কেন্দ্রের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়ায়।
সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে এই ধরণের বিপর্যয় এবারই প্রথম নয়। বিগত কয়েক দিনে কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে: নিট (NEET): দিনকয়েক আগেই প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতির অভিযোগে মেডিক্যালের এই নামী প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এসএসসি জিডি (SSC GD): এই পরীক্ষা ঘিরেও উঠেছে ভুরি ভুরি অভিযোগ। কোথাও আসন সংখ্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি পরীক্ষার্থীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে, কোথাও পরীক্ষা চলাকালীন কম্পিউটার সিস্টেম ক্র্যাশ করেছে, আবার কোথাও সিস্টেম হ্যাক হওয়ার খবর মিলেছে। যার জেরে একাধিক জায়গায় পরীক্ষা বাতিল করতে হয়। সিইউইটি ইউজি (CUET UG): এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল কলেজের এই প্রবেশিকা পরীক্ষাও। এই চরম অব্যবস্থা নিয়ে মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে বিরোধী দলগুলি। আম আদমি পার্টি (AAP)-র শীর্ষ নেত্রী অতিশী পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, 'এটি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অনবদ্য অপদার্থতা। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর শুনছে পরীক্ষা পিছিয়ে গিয়েছে।'
বারবার কেন এই স্বনামধন্য সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক ত্রুটি দেখা যাচ্ছে এবং কেন কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়ামক সংস্থাগুলি এভাবে ছেলেখেলা করছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে একের পর এক কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় এই ধরণের বিপর্যয় যে মোদী সরকারের শিক্ষানীতি ও পরিকাঠামোকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

