Bangla Jago Desk: ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mookerjee) ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে হুগলির জিরাটে তাঁর পৈতৃক ভিটেয় এক ঐতিহাসিক এবং আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলা। ডঃ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্মারক, সংগ্রহশালা (Museum) এবং পাঠাগার তৈরির জন্য তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হল।
অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই ঐতিহাসিক হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই অত্যাধুনিক স্মারক সৌধ নির্মাণের ঘোষণা করেছেন।
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে হুগলি জেলার জিরাটে অবস্থিত তাঁর আদি পৈতৃক ভিটে সেজে উঠেছিল এক অনন্য উৎসবে। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ডঃ মুখোপাধ্যায়ের বংশধরদের উপস্থিতিতে তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তিটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংস্কৃতি ও তথ্য দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রেকর্ড সময়ের মধ্যে এই সম্পত্তির আইনি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জমিতে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, আদর্শ এবং তাঁর সংগ্রামকে উৎসর্গ করে একটি বিশ্বমানের গ্র্যান্ড মেমোরিয়াল, অত্যাধুনিক মিউজিয়াম এবং একটি বিশাল লাইব্রেরি বা পাঠাগার গড়ে তোলা হবে।
এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, সুমনা সরকার, স্থানীয় বিধায়ক শ্রী সুবীর নাগ, ড. অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় এবং ডঃ মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও প্রশাসনিক স্তরে উপস্থিত ছিলেন হুগলির জেলাশাসক (DM) শ্রী কে. এ. কাদরী এবং হুগলির পুলিশ সুপার (SP)-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে জিরাটে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
এই মহতী অনুষ্ঠানের সন্ধ্যায় 'সংস্কার ভারতী'র পক্ষ থেকে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও সমসাময়িক সময়ের ওপর ভিত্তি করে একটি অসাধারণ ও অনুপ্রেরণামূলক নৃত্যনাট্য পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন জিরাটের প্রবীণ বাসিন্দা শ্রী রবীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীকে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়। প্রবীণ এই ব্যক্তিত্ব স্বয়ং ডঃ মুখোপাধ্যায়কে সশরীরে দেখেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেছিলেন। তাঁর মুখে ডঃ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ শুনে উপস্থিত সকলেই আপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তারা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত' (Ek Bharat Shreshtha Bharat) দর্শনের আসল প্রতীক এবং অনুপ্রেরণা হিসেবে বর্ণনা করেন। ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা এবং বাংলার গঠনে তাঁর অবদান আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। হুগলির জিরাটে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নতুন উদ্যোগ কেবল একটি স্মারক সৌধ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে ডঃ মুখোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য প্রবেশদ্বার হতে চলেছে। একটি সার্থক শ্রদ্ধাঞ্জলি, একটি ঐতিহাসিক লগ্ন এবং এক দুর্দান্ত সূচনার মধ্য দিয়ে হুগলির জিরাটে এক চিরস্মরণীয় সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটল।

