Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ঋতব্রতর শিবিরে মুর্শিদাবাদের ৮ তৃণমূল বিধায়ক, এবার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাগরদিঘির চর্চিত বিধায়ক বায়রন

ঋতব্রতর শিবিরে মুর্শিদাবাদের ৮ তৃণমূল বিধায়ক, এবার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাগরদিঘির চর্চিত বিধায়ক বায়রন

Bangla Jago TV 1 week ago

Bangla Jago Desk: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার নজিরবিহীন মহাবিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে 'নব্য তৃণমূল' নামে পৃথক এক পরিষদীয় দল গঠন করেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৮ জনই ঋতব্রতকে নিজেদের 'বিরোধী দলনেতা' হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এই চরম আকস্মিক বিদ্রোহের আঁচ এসে পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলাতেও, যার ফলে জেলার তৃণমূল শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখন পুরোপুরি স্পষ্ট। জেলার বিক্ষুব্ধ বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী হিসেবে মান্যতা দিলেও, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে নিতে কোনোভাবেই রাজি নন। ফলস্বরূপ, মুর্শিদাবাদের ৯ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই একজোটে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সাগরদিঘির বহু চর্চিত বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসও। তিনি নিজে এই সই প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁর 'বিশ্বাস' ও সমর্থন এখন ঋতব্রতের প্রতিই রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদ জেলায় এই বিদ্রোহ সংগঠিত করার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারিগর হলেন রঘুনাথগঞ্জের বর্ষীয়ান বিধায়ক আখরুজ্জামান। উল্লেখ্য, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল কংগ্রেসের মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন, তখন তাঁর হাত ধরেই ২০১৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন আখরুজ্জামান। এবার তিনি নিজে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জেলার সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম, সুতির ইমানি বিশ্বাস, লালগোলার আব্দুল আজিজ, ভগবানগোলার রিয়াত হোসেন সরকার, হরিহরপাড়ার নিয়ামত শেখ, ভরতপুরের মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাগরদিঘির বায়রন বিশ্বাসকে একজোট করতে সফল হয়েছেন। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আখরুজ্জামান স্পষ্ট জানান, জেলার ৯ জন বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই তাঁদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং তাঁরা মূলত দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের ভাবাবেগকে মর্যাদা দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এদিকে এই বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজেদের আনুগত্য বজায় রাখার এক অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করেছেন। সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসের কথায়, 'আমাদের নেত্রী মমতাদি-ই। মমতাদি নিজে ঋতব্রতকে একসময় রাজ্যসভার সাংসদ করেছিলেন এবং পরে বিধানসভার টিকিট দিয়ে বিধায়কও বানিয়েছেন। তাই নেত্রীর সেই বিশ্বস্ত সৈনিক ঋতব্রতের সঙ্গে থাকা মানে আদতে নেত্রীর সিদ্ধান্তেরই পাশে থাকা।' সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম, ভরতপুরের মোস্তাফিজুর রহমান ও ভগবানগোলার রিয়াত হোসেন সরকাররাও ইমানি বিশ্বাসের এই সুরেই সুর মিলিয়েছেন।

তবে এই ঝড়ের মধ্যেও মুর্শিদাবাদ জেলায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এককভাবে সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছেন জলঙ্গির নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাবর আলি। জেলার একমাত্র 'অবিদ্রোহী' এই বিধায়কের সাফ কথা, 'রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। দলনেত্রী পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে যার নাম চূড়ান্ত করতে বলবেন, আমি চোখ বন্ধ করে তার পক্ষেই সই করব।' বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করে এই শিক্ষাবিদ-রাজনীতিক আরও বলেন, তিনি রাজনীতির এই জটিল মারপ্যাঁচ বা ক্ষমতার অলিন্দের কাড়াকাড়ি বোঝেন না। কিন্তু দল বিধানসভা ভোটে খারাপ ফল করার মাত্র এক মাসের মধ্যেই নিজেদের বিধায়কদের এমন সুযোগ সন্ধানী আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও হতাশাজনক।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Bangla Jago TV