Bangla Jago Desk: শনিবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি 'শান্তিনিকেতনে' আচমকাই হাজির হন সিআইডি (CID) আধিকারিকেরা। তবে সেই সময় অভিষেক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না; তিনি দলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষের বাড়িতে বেলেঘাটায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
পরে সেখান থেকে সরাসরি কালীঘাটের মূল বাসভবনে ফিরে আসেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কালীঘাট থেকেই সিআইডি-র এই তৎপরতা নিয়ে সুর চড়িয়ে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি হরিশ মুখার্জি রোডের ওই বাড়িতে থাকেন না। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বা কোনও নোটিস দিতে হলে সিআইডি-কে কালীঘাটের এই বাড়িতেই আসতে হবে।
অভিষেকের এই বার্তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সিআইডি-র একটি দল কালীঘাটের বাসভবনেও পৌঁছে যায়। বাড়ির নিচে কর্তব্যরত এক আধিকারিক জানান, সিআইডি অফিসারেরা নোটিসটি সরাসরি অভিষেকের হাতেই তুলে দিতে চান। এই খবর ভেতরে পাঠানো হলে অভিষেক তাঁদের অপেক্ষা করতে বলেন এবং কিছু ক্ষণ পর নিজেই নিচে নেমে এসে সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন ও নোটিসটি গ্রহণ করেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ভবানীপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর (FIR) প্রেক্ষিতে আগামী সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার ভবানী ভবনে (সিআইডি সদর দফতর) তলব করা হয়েছে।
সিআইডি-র নোটিস নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, 'ওঁরা একটা নোটিস নিয়ে এসেছিলেন, আমি সেটা গ্রহণ করেছি। এখনও বিস্তারিত পড়ে দেখিনি, আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব। তদন্তে সহযোগিতার জন্য যেখানেই ডাকা হোক না কেন, আমি যাব। আমার লোকানোর কিছু নেই। এর আগে যখনই ইডি (ED) বা সিবিআই (CBI) আমাকে ডেকেছে, আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। আমি লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছু হটার পাত্র নই।' সিআইডি-র এই আকস্মিক হানা প্রসঙ্গে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'এই সবের নেপথ্যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিহিংসা রয়েছে। ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মনে রাখা দরকার, যারা ক্ষমতার দম্ভে এসব করে, তারা বেশি দিন টিকতে পারে না। রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, কিন্তু এভাবে আমার মাথা নত করা যাবে না।'
কলকাতা পুরসভার (KMC) তরফ থেকে পাঠানো একটি নোটিস নিয়েও এদিন মুখ খোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, পুরসভার এই নোটিসের বিরুদ্ধে তিনি খুব দ্রুত বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হবেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করবেন। সিআইডি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও শানিয়ে তিনি বলেন, 'সিআইডি কী জিনিস? আমি তো ইডি-সিবিআইয়ের সামনেও কখনও মাথা নত করিনি। এদের দশ পুরুষও যদি একজোট হয়ে আমাকে সিআইডি, কেএমসি বা ইডি দিয়ে ভয় দেখায়, কিংবা বাড়ি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে— যা ইচ্ছা করে নিক। দিল্লির কাছে মাথা নত করার আগে আমার মৃত্যু অনেক ভালো।'
এদিন নাম না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে তিনি বলেন, 'অমিত শাহের পদলেহন করে বিজেপিতে যোগ দিয়ে এবং মাথায় দু-তিনটি ইডি-সিবিআইয়ের দুর্নীতির কেস নিয়ে এখন অনেকে বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন। এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে হাত বাড়িয়ে টাকা নিতে দেখা যায়নি। এরা আবার আমাদের চোর বলে!' নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর প্রসঙ্গে অমিত শাহের একটি পুরনো মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, 'অমিত শাহ যখন জনসভায় দাঁড়িয়ে 'উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করার' কথা বলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয় না। আমাকে ঝোঁকাতে হলে ওঁদের আরও ৬০ বার জন্ম নিতে হবে। ক্ষমতা থাকলে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে দেখাক, আমি আইনের পথেই আইনি লড়াই লড়ব।'

