Bangla Jago Desk: বুধবার সকালে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই ভোটপ্রচারে ঝড় তুলতে হুগলিতে পৌঁছেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শ্রীরামপুরের জনসভায় তাঁর বক্তব্য চলাকালীনই ঘটে গেল এক বিপত্তি। সভামঞ্চের একেবারে কোল ঘেঁষে দর্শকাসনে হঠাৎই আগুনের ফুলকি দেখা দেয়।
মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় জনসভায়, ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝপথেই নিজের ভাষণ থামিয়ে দিতে বাধ্য হন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বৈদ্যুতিক লাইনে লুজ কানেকশন বা শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি। সভাস্থলের একটি খোলা ইলেকট্রিক বক্স থেকে ফুলকি বেরোতে দেখেন উপস্থিত কর্মীরা। মঞ্চ থেকে এই দৃশ্য দেখে মেজাজ হারান মমতা। নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি ধমক দেন আয়োজকদের। নেত্রীর প্রশ্ন, 'এরকম হবে কেন? মঞ্চের এত কাছে সুরক্ষা নিয়ে কেন খামতি থাকবে?' যারা এই কাজের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
অবশ্য পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। জায়গাটি দড়ি দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ, ফলে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। এর আগে বীরভূমের লাভপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। শ্রীরামপুরের এই ঘটনা সেই স্মৃতিকেই উসকে দিল। তবে আতঙ্ক কাটিয়ে কিছুক্ষণ পর ফের বক্তব্য শুরু করেন মমতা।
এদিনের সভা থেকে একদিকে যেমন বিজেপি সরকারকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও ভোটার তালিকা (SIR) ইস্যুতে তুলোধোনা করেন মমতা, তেমনই দলীয় কর্মীদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তাও দেন। সকালের মনোনয়ন পেশের পর হুগলির বলাগড় ও শ্রীরামপুরে মমতার এই ম্যারাথন প্রচার বুঝিয়ে দিল, ছাব্বিশের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও বিরোধীদের ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির।

