Bangla Jago Desk: রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতের সেই শ্যুটআউটের ঘটনায় এবার নাটকীয় মোড় নিল। আশ্চর্যজনকভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলল বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের বিবৃতি ও পাল্টা দাবি
তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'আমরা চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা করছি। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক খুনোখুনির কোনও জায়গা নেই।' তবে একই সঙ্গে তারা ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাঁদের তিন কর্মীর মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির দুষ্কৃতীদের হাতে তৃণমূল কর্মীরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এই সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।
রণক্ষেত্র মধ্যমগ্রাম ও রথীন ঘোষের গ্রেফতারির দাবি
এদিকে চন্দ্রনাথের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই মধ্যমগ্রামে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। মধ্যমগ্রামের সদ্য জয়ী তৃণমূল নেতা তথা বিদায়ী মন্ত্রী রথীন ঘোষের অনুগামীদের বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি কর্মীরা। রথীনের গ্রেফতারির দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে রাতভর চলে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) নামাতে হয়। শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য এবং অগ্নিমিত্রা পালের মতো হেভিওয়েট নেতারা রাতভর হাসপাতালেই অবস্থান করেন।
তদন্তে সিবিআই না কি রাজ্য পুলিশ?
রাত ১টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানান, অপরাধে ব্যবহৃত একটি চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যাতে শিলিগুড়ির নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে সেই নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু কার্তুজ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানোকে রাজনৈতিক মহলে এক অত্যন্ত 'তাৎপর্যপূর্ণ' পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের মোড় ঘোরাতেই কি তৃণমূলের এই সিবিআই চাল?

