Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
স্পিকারকে ফের চিঠি তৃণমূলের, বিরোধী মর্যাদা বাঁচাতে মরিয়া কুণাল-শোভনদেবরা

স্পিকারকে ফের চিঠি তৃণমূলের, বিরোধী মর্যাদা বাঁচাতে মরিয়া কুণাল-শোভনদেবরা

Bangla Jago TV 1 week ago

Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের ভোটে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন যখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল, ঠিক তখনই বিধানসভায় নিজেদের 'প্রধান বিরোধী' দল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া লড়াই শুরু করল ঘাসফুল শিবির। মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভার অলিন্দে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি।

দলের অস্তিত্ব ও পদের বৈধতা রক্ষায় স্পিকার রথীন বোসের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়েছিলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং অসীমা পাত্র। কিন্তু অভিযোগ, স্পিকারের সচিব সেই চিঠি গ্রহণ করতেই অস্বীকার করেন। শেষমেশ উপায় না দেখে সচিবের ফাঁকা চেয়ারে পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে চিঠিটি রেখে আসেন এবং গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করে রাখেন তৃণমূল বিধায়করা।

বিধানসভা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুরে স্পিকার রথীন বোস চত্বরে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে তৃণমূলের দুই বিধায়ক স্পিকারের সচিবের কাছে তাঁদের নতুন চিঠিটি জমা দিতে যান। কিন্তু কুণাল ঘোষের অভিযোগ, সচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি আর কোনও চিঠি 'রিসিভ' বা গ্রহণ করবেন না। এই ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন: 'সোমবার আমাদের দলের তরফে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, যা সচিব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তারপরই স্পিকারের অফিস ও বিধানসভার সচিবালয় থেকে সচিবকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি বিরোধী দলের (তৃণমূল) কাছ থেকে আর কোনও চিঠি নিতে পারবেন না। স্পিকার নিজে দেখা করবেন না, আবার চিঠিও দেওয়া যাবে না— এটা কেমন নিয়ম? তাই আমরা বাধ্য হয়ে চিঠিটি সচিবের চেয়ারে পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে রেখে এসেছি এবং পুরো বিষয়টির ভিডিওগ্রাফি করে রেখেছি।'

বিরোধী শিবিরের চিঠি গ্রহণ না করা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে যখন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে, তখন শাসকদলের পক্ষে দাঁড়িয়ে সাফাই দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি জানান, 'যেহেতু তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে এবং তা নিয়ে সিআইডি তদন্ত চলছে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আসছেন— সেই কারণেই হয়তো আইনি জটিলতা এড়াতে চিঠি জমা না নেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশিকা থাকতে পারে। তবে স্পিকার যদি কোনও নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা নিয়ে বাইরে আলোচনা করা সমীচীন নয়।' রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যে চিঠি ঘিরে বিধানসভায় এত বড় কাণ্ড ঘটে গেল, তার ভেতরে আসলে কী লেখা রয়েছে? তৃণমূল দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার প্রথম যে চিঠিটি স্পিকারের দপ্তরে জমা পড়েছিল, তাতে সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রায়ে বলা হয়েছে— বিধানসভায় 'বিরোধী দলনেতা' কে হবেন, তা নির্ধারণ করার একক এক্তিয়ার রয়েছে সংশ্লিষ্ট বৃহত্তম বিরোধী দলের (হাইকমান্ডের), সাধারণ বিধায়কদের নয়। এই আইনের ওপর ভিত্তি করেই তৃণমূল দাবি করেছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে চিঠিটি আগে দিয়েছিলেন, সেটিই সম্পূর্ণ বৈধ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Bangla Jago TV