Bangla Jago Desk: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভবনাই এখন এই দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ঝুঁকির সূচকগুলি আধুনিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে, এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক অস্থিরতা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সরাসরি সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক 'মহাযুদ্ধের' ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু করে। একই সুরে চলতে থাকে ইসরায়েলের 'রোরিং লায়ন'। রাশিয়া আর চিনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের চুক্তি, 'স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি'-র মেয়াদ শেষ হয়েছে। কার কত পারমাণবিক অস্ত্র বা ওয়ারহেড আছে, অন-সাইট পরিদর্শন ও তথ্যের আদান প্রদান হতো চুক্তি মোতাবেক। অনেকেই ভাবছে, এবার বুঝি পারমাণবিক স্বেচ্ছাচারিতা শুরু হবে। যুদ্ধের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধে 'মানবিক' ভূমিকা ক্রমশ পাতলা হয়ে উঠছে। এখন সামরিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জেনারেটিভ এআই। কয়েক হাজার স্যাটেলাইট চিত্র এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স সংশ্লেষ করে 'আক্রমণের' স্ট্র্যাটেজি করা মানব বিশ্লেষকদের পক্ষে অসম্ভব। এআই যে একটা যুদ্ধকে কতটা ক্ষিপ্রতা দিতে পারে, ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে। অনেকের মনে তাই প্রশ্ন, ইরান যুদ্ধ কি তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের একটা রিহার্সাল। এই ভাবনার বাস্তবতা নিয়েই এই আলোচনা।
ইরানএখনও'শেষ' হয়নি
ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর চরম আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ইরানের বিমান ও নৌ বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়েছে। মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণ বিমান আধিপত্য অর্জন করেছে। বি ১ ল্যান্সারের মতো প্রথাগত যুদ্ধ বিমান ইরানের আকাশসীমায় সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আব্বাস, চাবাহার এবং কোনারাকের নৌ কেন্দ্রগুলিতে মুহুর্মুহু আক্রমণে নৌ বাহিনী বলে আর কিছু বাকি নেই। দেশের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেয়ী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্টাফ, আব্দুর রহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ সহ ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের পুরো শীর্ষস্তর নিকেশ করা হয়েছে। তবু ইরান যুদ্ধ চালিয়ে একের পর এক সামরিক উচ্চ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর ইরানের প্রাথমিক কৌশলগত লক্ষ্য ছিল সরকারের সম্পূর্ণ পতন রোধ করা। বিশেষজ্ঞদের পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছে। তাকে সহায়তা করতে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি মোহসেনি-এজে'ই কে নিয়ে তৈরি হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল। বিমান বাহিনী এবং কেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামো ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, সামরিক বাহিনীর বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। স্থানীয় আইআরজিসি কমান্ডারদের 'স্বায়ত্তশাসিত ফায়ার অথরিটি' দেওয়া হয়েছে। শত্রু সম্পদ আক্রমণের জন্য এরা স্বাধীনভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। উচ্চ-মূল্যের 'স্টিং' আক্রমণই এখন ইরানের লক্ষ্য। গত ৪ এপ্রিল মোবাইল, লুকানো এয়ার ডিফেন্স ইউনিট ব্যবহার করে একটি মার্কিন এফ ১৫ ই এবং একটি এ১০ ওয়ারথগকে সফলভাবে ভূপাতিত করে। অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং সম্পদগুলি গভীর ভূগর্ভস্থ 'ক্ষেপণাস্ত্র শহরগুলি' এবং ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক অঞ্চলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এখানে মার্কিন আক্রমণ হলে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষোভকে উস্কে দেওয়া যায়।
ইরানের প্রাথমিক প্রতিরক্ষামূলক কৌশল হচ্ছে যতটা সম্ভব নিজের সীমান্ত থেকে দূরে লড়াই করা। ইরান লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক এবং সিরিয়ার গোষ্ঠীগুলিকে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র দেয় যাতে তারা নিজেদের অঞ্চলগুলিতে ইসরাইল, সৌদি আরব ও মার্কিন স্থাপনার বিরুদ্ধে লড়াই করে। হিজবুল্লাহ ইরানি ফ্রন্ট থেকে ইসরাইলি আইডিএফের সম্পদ সরিয়ে নিতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ স্থল যুদ্ধ শুরু করেছে। হুথিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ এবং লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধির চেষ্টায় মরিয়া। এটা যুদ্ধবিরতির একটা চাপও বটে। ইরাকি মিলিশিয়ারা ইরাক ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিদিন ড্রোন ও রকেট হামলা চালাচ্ছে যাতে এই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। মার্কিনি হামলায় হুথিদের সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পরে ইরান সুদানের সশস্ত্র বাহিনীকে (এসএএফ) নতুন প্রক্সি হিসাবে প্রস্তুত করছে। এরাই সুদানের গৃহযুদ্ধের প্রধান অংশীদার। ইরানের সামরিক সরঞ্জামের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এরা লোহিত সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি এবং আমিরশাহীর নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। প্রয়োজনে ইরানের দেওয়া মোহাজের ৬ এবং আবাবিল ৩ ড্রোন ব্যবহার করতে পারে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ঠিক করেছে, 'হুমকির বস্তুনিষ্ঠ লক্ষণ' দেখলেই প্রথমেই ড্রোন 'স্যাচুরেশন তরঙ্গ' ব্যবহার করবে, আঘাত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবে না। অবিচ্ছিন্ন, ছোট-আকারের আক্রমণাত্মক হামলায় তারা যেতে চায়। শাহেদ সিরিজ ড্রোনের 'স্যাচুরেশন তরঙ্গ' এখন ইরানের সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র। শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষাকে (যেমন প্যাট্রিয়ট বা আয়রন ডোম) ক্রমাগত ব্যস্ত রাখে। এই কাজে নিযুক্ত সেনাদের ক্লান্ত করে। কুড়ি হাজার ডলারের ড্রোনকে বাধা দিতে চল্লিশ লক্ষ ডলারের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে। শক্তিশালী নৌবাহিনী দুর্বল হওয়ায় ইরান এখন 'মশা কৌশল' নিয়েছে। শত সহস্র আত্মঘাতী নৌকা ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সমুদ্র দখল করে আছে। এদের সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধ অত্যন্ত ব্যয়বহুল, প্রায় অসম্ভব। 'মশা মারতে কামান দাগো'র অবস্থা। ইরানের দুর্গম উপকূলরেখা বরাবর উপকূলীয় গুহা থেকে লুকিয়ে শোর-টু-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ব্যবস্থায় রেখেছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইরানের কাছে যুদ্ধের অস্ত্র নয়, রাজনৈতিক হাতিয়ার। ইরান তাদের শত্রুদের বোঝানোর চেষ্টা করছে, তাদেরকে আক্রমণ করার ব্যয় জয়ের সুবিধার চেয়ে বেশি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি বিমান অভিযানের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুখোমুখি হয়ে, বিশ্ব অর্থনীতিকেই ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক থিয়েটারে পরিণত করতে চায়। মাইন, ড্রোন ঝাঁক এবং স্যাটেলাইট স্পুফিং (জিপিএস বোকা বানানোর পদ্ধতি) ব্যবহার করে তারা হরমুজ প্রণালীকে 'নির্বাচিতভাবে ব্যবহারযোগ্য' করে তুলেছে। ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। লক্ষ্য যাতে তেলের দাম দেড়শো ডলার ছাপিয়ে যায়। আবার হরমুজ প্রণালীতে আটক জাহাজ ছাড়তে বিপুল অঙ্কের চিনা ইউয়ানে টোল দাবি করছে। ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলির অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় আঘাত করছে যাতে যুদ্ধ বিরতির জন্য তারা আমেরিকার ওপর চাপ বাড়ায়। মার্চের শেষের দিকে কাতারের একটি প্রধান গ্যাস উত্পাদন কেন্দ্রে হামলা করে ইরানে কাতারের এলএনজি রফতানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ নষ্ট করে দেয়। এশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে, ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) রাজ্যগুলিতে একটি বিশাল খাদ্য নিরাপত্তা সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। খাবারের দাম বাড়ছে হু হু করে, অধিকাংশ আমদানিকৃত খাদ্য সামগ্রী অমিল। ইরান মনে করছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে তাদের নিজস্ব অর্থনীতি ১০ শতাংশ সঙ্কুচিত হওয়ার সম্ভাবনা। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কট শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পতনে নিয়ে যাবে।
চিনেরভূমিকা
যুদ্ধ সত্ত্বেও, চিন ইরানের প্রায় ১৩ শতাংশ তেলের কিনে যাচ্ছে। দামে ভালই ছাড় পাচ্ছে। ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাছে চিনকে তেল বেচার অর্থে। যারা চিনা রেনমিনবিতে তেলের দাম মেটাচ্ছে, ইরান হরমুজের মধ্য দিয়ে তাদের সীমিত তেল পরিবহণের অনুমতি দিচ্ছে। এটি জ্বালানি বাজারে মার্কিন ডলারের আধিপত্যের সরাসরি আঘাত। রাশিয়ার বিকল্পে, চিন 'জ্বালানি তৃষ্ণার্ত'। হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত। বেল্ট অ্যান্ড রোড অবকাঠামো রক্ষা করার জন্য চিন বারংবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া এবং চিন গত ৭ এপ্রিল, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার প্রস্তাবে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে। জলপথ পুনরায় না খুললে ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া ও চিন স্পষ্টভাবে যুদ্ধ শুরু এবং বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কটের সূত্রপাতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে দোষারোপ করে। অবিলম্বে সব সামরিক অভিযান বন্ধ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেই তাদের মত। তবে চিন বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার বিরুদ্ধে তাদের কৌশলগত বিমা নীতি হিসাবে, 'ক্লিন টেক' বা তেল বিহীন প্রযুক্তি উন্নত করে ফেলেছে। চিন বিশ্বের প্রথম 'ইলেক্ট্রোস্টেট' দেশ অর্থাৎ তেল এবং গ্যাসের পরিবর্তে তারা সৌর, বায়ু, ব্যাটারি থেকে শক্তি উত্পাদন করছে। চিনের মোট ইনস্টল সৌর ক্ষমতা তার কয়লা-চালিত ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। চিন বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ সৌর প্যানেলের পলিসিলিকন এবং ইভি এবং বায়ু টারবাইনে ব্যবহৃত বিরল খনিজ পরিশোধনের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। চিনা কোম্পানি, বিওয়াইডি টেসলার চেয়ে অনেক বেশি বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) তৈরি করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু অংশের বাজারে চিনা ইভি ছেয়ে গেছে। চিন দীর্ঘমেয়াদি শক্তি সঞ্চয় (এলডিইএস) ব্যাটারি তৈরি করছে, যা কয়েক দিন ধরে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। চিন বর্তমানে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। জল থেকে তরি করছে হাইড্রোজেন। আগামী কয়েক দশকে চিনের আর বিদেশের তেল লাগবে না। দেশে যথেষ্ট বিকল্প থাকছে।
রাশিয়ারভূমিকা
রাশিয়ার ভূমিকা অনেক বেশি সুবিধাবাদী। তারা ইরান যুদ্ধকে মার্কিন সম্পদ নিষ্কাশন করতে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট নিজস্ব বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যবহার করছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল অবরুদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্ব রাশিয়ান ইউরাল অপরিশোধিত তেলের দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন ট্রেজারি এক অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় ভারত এবং অন্যান্যদের রাশিয়ান তেল কেনার অনুমতি দেয়। পুতিনের কাছে একটি 'আর্থিক অলৌকিকতা'। এই বছরে রাজস্ব ১৬০ বিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে। ইরানের বর্তমান ড্রোন ঝাঁক কৌশল ইউক্রেনে রাশিয়ার কৌশলের প্রায় অনুরূপ। দুই দেশের গভীর প্রযুক্তিগত পরামর্শের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রাশিয়া সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করা থেকে এড়িয়ে যাচ্ছে। চাইছে প্রতিদিন যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক। এতে জ্বালানির দাম বেশি থাকবে আর পশ্চিমী মনোযোগ পূর্ব ইউরোপ থেকে দূরে রাখবে। সংক্ষেপে, চিন চাইছে যাতে শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হয়। তারা দ্রুত বাণিজ্যে ফিরে আসতে চায়। অন্যদিকে যুদ্ধ যত বেশি দিন চলবে, রাশিয়ার তাতেই লাভ। রাশিয়া ইতিমধ্যেই তেলের দাম বৃদ্ধিতে ২০২৬ সালের আর্থিক বাজেটের অর্থায়ন করে ফেলেছে।
সমাপ্তিমন্তব্য
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থেকে পরিষ্কার, যুদ্ধের চাপ আর নেওয়া যাচ্ছে না। তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের চাপ কতটা ভয়ঙ্কর ও অসহনীয় হতে পারে, যুদ্ধ অংশগ্রহণকারীরা বুঝেছে। ভারত বলে এসেছে, 'আলোচনা এবং কূটনীতি' যুদ্ধের একমাত্র বিকল্প। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, আনুগত্যের পরিবর্তে শক্তি, সুরক্ষা এবং বাণিজ্য প্রভৃতি জাতীয় স্বার্থ নিয়েই ভারত চিন্তিত। এই দুই সপ্তাহে সবাইকেই ঘর গোছাতে হবে। যাদের তেল গ্যাসের ভাণ্ডার শেষ, চেষ্টা করবে মজুত বাড়াতে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর মন থাকবে পুনর্গঠনের দিকে। আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর, ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন ২৬ অক্টোবর। বাজেট জনিত কারণে এগিয়ে আসতে পারে। নতুন করে যুদ্ধ নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প দু'জনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বানচাল করতে পারে।

