Bangla Jago Desk: উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ যখন তীব্র দাবদাহ এবং রেকর্ড গরমে পুড়ছে, তখন সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি ধরা পড়ল পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ডে। বিগত কয়েকদিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে এবার সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হলো বিখ্যাত 'কেদারনাথ যাত্রা'।
স্থানীয় প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি পথে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নত হলে তবেই পুনরায় যাত্রা শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে।
উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়ালের পুলিশ কমিশনার আনন্দ স্বরূপ সংবাদমাধ্যমকে জানান, লাগাতার বৃষ্টির কারণে কেদারনাথের পাহাড়ি যাত্রাপথ এই মুহূর্তে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অসুরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার্থে আপাতত যাত্রা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত তীর্থযাত্রী ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছিলেন, তাঁদের শ্রীনগর-সহ একাধিক নির্ধারিত ট্রানজিট ক্যাম্প ও সরকারি বিশ্রাম কেন্দ্রগুলিতে নিরাপদে রাখা হয়েছে। প্রশাসন তাঁদের সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। জারি 'কমলা সতর্কতা' (Orange Alert), উঁচুতে তুষারপাতের সম্ভাবনা ভারতের মৌসম ভবন (IMD) ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলগুলির জন্য 'কমলা সতর্কতা' বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী: উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরকাশী, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি, বাগেশ্বর এবং পিথোরাগড়— এই পাঁচ জেলায় দুর্যোগের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। হিমালয়ের অত্যন্ত উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ভারী তুষারপাতের (Snowfall) পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।
শীতকালীন বিগ্রহের স্থান পরিবর্তন ও অক্ষয় তৃতীয়ার সূচনা উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থান ও তীব্র শীতের কারণে বছরের একটা বড় সময় (শীতকাল জুড়ে) কেদারনাথ মন্দির সম্পূর্ণ তুষারাবৃত থাকে। সেই সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ করে ভেতরের মূল বিগ্রহটি সাময়িকভাবে স্থানান্তরিত করা হয় উত্তরাখণ্ডের উখিমঠের 'ওমকারেশ্বর মন্দিরে'। প্রতি বছর মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে ওমকারেশ্বর মন্দিরেই বিশেষ পূজার্চনার মাধ্যমে দিনক্ষণ নির্ধারিত হয় যে, আগামী মরসুমে কবে কেদারনাথের দরজা খুলবে। সেই নিয়ম মেনেই চলতি মরসুমে গত ২২ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ায় ধুমধাম করে খুলেছিল বাবা কেদারনাথের মন্দিরের দ্বার। কিন্তু জুনের দোড়গোড়ায় এসে প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপের কারণে আপাতত থমকে গেল বাবা কেদারনাথের দর্শন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত।

