Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ডিমের ঝাল - সর্ষে-কাঁচালঙ্কার ঝাঁঝে বাঙালি ঘরানার মশলাদার ডিম।

ডিমের ঝাল - সর্ষে-কাঁচালঙ্কার ঝাঁঝে বাঙালি ঘরানার মশলাদার ডিম।

ডিমের ঝাল বাঙালি রান্নার এমন একটি পদ, যেখানে খুব বেশি মশলা ব্যবহার না করেও ঝাল, সর্ষের তীব্রতা এবং ডিমের স্বাদকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। এই রান্নাটি সাধারণ ডিমের ঝোল বা ডিমের কষার থেকে আলাদা। এখানে মশলার পরিমাণ তুলনামূলক কম, কিন্তু সর্ষে, কাঁচালঙ্কা এবং সর্ষের তেলের সুবাস রান্নাটিকে বিশেষ করে তোলে।

গরম ভাতের সঙ্গে দুপুরের খাবারে এই পদ অত্যন্ত মানানসই। রান্নাটির গ্রেভি খুব বেশি না রেখে মাখোমাখো করে তৈরি করলে স্বাদ আরও ভালো হয়।

একটি পাত্রে ডিমগুলো রাখুন।

ডিম সম্পূর্ণ ডুবে যায় এমন পরিমাণ জল দিয়ে মাঝারি আঁচে সেদ্ধ করুন।

শক্ত সেদ্ধ হয়ে গেলে ডিমগুলো তুলে ঠান্ডা জলে রাখুন।

এরপর খোসা ছাড়িয়ে প্রতিটি ডিমে হালকা করে দু-তিনটি চিরে দিন।

একটি পাত্রে ডিম নিয়ে সামান্য হলুদ ও লবণ মাখিয়ে রাখুন।

আলু ছাড়িয়ে মাঝারি আকারের টুকরো করে নিন।

আলুতে সামান্য হলুদ ও লবণ মাখিয়ে রাখুন।

কড়াইয়ে ১ টেবিল চামচ সর্ষের তেল গরম করে আলুগুলো হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে তুলে রাখুন।

একই তেলে ডিমগুলোও হালকা করে ভেজে নিন।

ডিম খুব বেশি ভাজবেন না। হালকা সোনালি রং হলেই তুলে রাখুন।

হলুদ সর্ষে ও কালো সর্ষে একসঙ্গে ভালোভাবে ধুয়ে ১৫ মিনিট জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন।

এরপর সর্ষের সঙ্গে কাঁচালঙ্কা, এক চিমটি লবণ এবং অল্প জল দিয়ে মিহি করে বেটে নিন।

সর্ষে বাটার সময় অতিরিক্ত জল ব্যবহার করবেন না।

সর্ষে বাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ রেখে দিন।

কড়াইয়ে বাকি সর্ষের তেল গরম করুন।

তেল ভালোভাবে গরম হলে কালোজিরে দিয়ে ফোড়ন দিন।

এরপর কাঁচালঙ্কা চিরে দিয়ে দিন।

কাঁচালঙ্কা তেলে পড়তেই সুন্দর সুবাস বের হবে।

এবার কুচি করা পেঁয়াজ দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজুন।

পেঁয়াজ হালকা সোনালি হয়ে এলে কুচি করা টমেটো যোগ করুন।

টমেটো নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।

এবার হলুদ, লাল লঙ্কার গুঁড়ো ও সামান্য লবণ দিয়ে দিন।

অল্প জল দিয়ে মশলাগুলো কষিয়ে নিন।

টমেটো পুরোপুরি নরম হয়ে মশলা মাখোমাখো হয়ে এলে আঁচ কমিয়ে দিন।

এবার তৈরি করে রাখা সর্ষে বাটা কড়াইয়ে দিয়ে দিন।

সর্ষে বাটা দেওয়ার পর বেশি সময় উচ্চ আঁচে রান্না করবেন না।

মাঝারি থেকে কম আঁচে ২-৩ মিনিট নাড়তে থাকুন।

সর্ষে পুড়ে গেলে স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে।

সামান্য চিনি দিয়ে মিশিয়ে নিন। চিনি সর্ষের তীব্রতা কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ করে এবং রান্নায় সুন্দর স্বাদ আনে।

এবার ভেজে রাখা আলু কড়াইয়ে দিয়ে দিন।

সবকিছুর সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

এরপর ভেজে রাখা ডিমগুলো যোগ করুন।

ডিমের গায়ে সর্ষের মশলা ভালোভাবে মাখিয়ে দিন।

এবার প্রয়োজনমতো অল্প জল দিন।

ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ৫-৭ মিনিট রান্না করুন।

যেহেতু এটি খুব পাতলা ঝোলের পদ নয়, তাই বেশি জল দেবেন না।

ঢাকনা খুলে দেখুন আলু সম্পূর্ণ সেদ্ধ হয়েছে কি না।

গ্রেভি যদি বেশি পাতলা মনে হয়, ঢাকনা খুলে আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন।

গ্রেভি যখন ডিম ও আলুর গায়ে সুন্দরভাবে লেগে থাকবে এবং উপর থেকে সামান্য সর্ষের তেল দেখা যাবে, তখন চুলা বন্ধ করে দিন।

শেষে ২টি কাঁচালঙ্কা চিরে দিয়ে ঢেকে ২ মিনিট রেখে দিন।

এতে কাঁচালঙ্কার সুন্দর সুবাস রান্নায় মিশে যাবে।

ডিমের ঝাল গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করাই সবচেয়ে ভালো।

প্লেটে গরম ভাত নিয়ে পাশে একটি বা দুটি ডিম, আলুর টুকরো এবং সর্ষের মশলা দিন।

উপর থেকে একটি কাঁচালঙ্কা রাখলে পরিবেশন আরও আকর্ষণীয় দেখাবে।

চাইলে সঙ্গে সামান্য শসা-পেঁয়াজের সালাদ রাখতে পারেন।

সর্ষের তেল কাঁচা গন্ধযুক্ত থাকলে রান্নায় সেই তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে। তেল ভালোভাবে গরম করে তারপর রান্না শুরু করুন।

ঘন সর্ষে বাটা এই রান্নার স্বাদকে অনেক বেশি ভালোভাবে ধরে রাখে।

সর্ষে বাটা বেশি আঁচে রান্না করলে তেতো স্বাদ আসতে পারে। তাই সর্ষে দেওয়ার পর আঁচ কমিয়ে দিন।

এই রান্নার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কাঁচালঙ্কার ঝাঁঝ। তবে ঝাল সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারেন।

চুলা বন্ধ করার পর ½ চা চামচ কাঁচা সর্ষের তেল উপর থেকে দিলে ঘ্রাণ অনেকটাই বেড়ে যায়।

যারা খুব ঝাল খাবার পছন্দ করেন, তারা সর্ষে বাটার সঙ্গে অতিরিক্ত কাঁচালঙ্কা ব্যবহার করতে পারেন।

চাইলে একটি শুকনো লঙ্কা ফোড়নেও ব্যবহার করা যায়।

তবে সর্ষের ঝাঁঝ ও কাঁচালঙ্কার ঝাল—দুটিই তীব্র হওয়ায় পরিমাণ বুঝে ব্যবহার করা ভালো।

এই রান্নায় চাইলে সামান্য কালো সর্ষের সঙ্গে কয়েকটি পোস্তদানা বেটে দিতে পারেন। এতে সর্ষের তীব্রতা কিছুটা নরম হবে এবং মশলায় হালকা বাদামি স্বাদ আসবে।

৪টি ডিম ও ২টি মাঝারি আলু দিয়ে সাধারণত ৩-৪ জনের জন্য রান্না করা যায়।

ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস এবং এতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। আলু থেকে কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। তবে রান্নায় তেল ব্যবহার হওয়ায় এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

ডিমের ঝাল তাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী যারা কম মশলায় ঝাল ও সর্ষের তীব্র স্বাদ পছন্দ করেন। সাধারণ ডিমের ঝোল বা কষার তুলনায় এর স্বাদ আলাদা—সর্ষে, কাঁচালঙ্কা ও সর্ষের তেলের ঝাঁঝ ডিমের সঙ্গে মিশে তৈরি করে একেবারে বাঙালি ঘরানার একটি রান্না।

গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করলে সাধারণ দুপুরের খাবারও হয়ে উঠতে পারে বেশ জমজমাট।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Bangla News 24x7