Wednesday, 31 Jan, 10.34 am বাংলাহান্ট

হোম পেজ
কমনওয়েলথ গেমসে সুযোগ পেয়ে আপ্লুত বৈদ্যবাটির মেহুলী ঘোষ


সুজিত গৌড়, হুগলী : মেহুলী ঘোষ ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের প্রতিযোগী হিসাবে যোগ দেবে। চলতি বছর এপ্রিলের ৫ থেকে ১৫ তারিখে সিনিয়র বিভাগের হয়ে পদকের জন্য লড়বে মেহুলী। এর আগেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেছে সে।২০১৭ টোকিওতে অনুষ্ঠিত ১০ম এশিয়ান এযারগান চ্যাম্পিয়ানশীপে সোনা জেতে বৈদ্যবাটীর মেহুলী। ১০ মিটার এযার রাইফেলে চিনের তিন শুটারকে হারিয়ে সোনা জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল তখন। সেই সঙ্গে বুয়েনস আইরেসে যুব অলিম্পিকে অংশ গ্রহন করার ছাড়পত্র পেয়েছিল। যুব বিভাগে ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতেছিল এবং টিম হিসাবে জিতেছিল ব্রোঞ্জ। ২০১৬ পুনেতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের শুটিং এ নয়টি পদক পেয়ে তাক লাগিয়ে জিতেছিল বৈদ্যবাটীর মেহুলী ঘোষ। চুঁচুড়ার একটি বেসরকারী ইংরাজী মাধ্যম স্কুলের ছাত্রী মেহুলী। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শুটিং এ ৪১৫.৬ স্কোর করে ব্যাক্তিগত এবং দলগত ভাবে দুটি গোল্ড সহ নয়টি পদক জয়ী হয়েছিল। জুনিয়ার, ইয়ূথ(যুব) ও সিনিয়ার বিভাগে এই পদক বাঙলার উদিয়মান শুটারকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। মেহুলীর লক্ষ্যই ছিল আগামী দিনে ভারতের জাতীয় দলে সূযোগ পাওয়া এবং এশিয়ান ও কমনওয়েলথ্ গেমস ও ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ানশীপে অংশ নেওয়া।

অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়াও মেহুলীর প্রধান লক্ষ্য। অভিনব বিন্দ্রা, অপূর্বী চান্ডিলদের আদর্শ করে তাই কঠোর অনুশীলন করে চলেছে মেহুলী, অলিম্পিয়ান শুটার জয়দীপ কর্মকারের অ্যাকাডেমিতে।২০১৭ ডিসেম্বরে কেরলে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের শুটিং চ্যাম্পিয়ানশীপে আটটি স্বর্ন পদক ও তিনটি ব্রোঞ্চ যেতে।ভারতীয় যুব দলের এই শুটার আন্তর্জাতীক স্তরে ৪২১ স্কোর হলে তবেই পদক আসবে বলে মনে করে সে। কারন বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিযান চিনের গাও মিংওয়েল, তাঁর কোয়ালিফিকেশন স্কোর ৪২১ পয়েন্ট। ২০১৪ তে শুরু করে মাত্র তিন বছরের মধ্যে রাজ্য স্কুল প্রিন্যাশনালের একাধিক সাফল্যের পর ১ম বার ন্যাশনালে নয়টি পদক মেহুলীকে ভালো শু্টিং এর প্রেরনা জুগিয়েছে।

২০১৭ এপ্রিলে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ানশীপে অংশ নেয়। সেখানে দুটি বিভাগে চ্যাম্পিয়ান হয়ে স্বর্ন পদক পায় এবং সেই সুবাদে দেশের হয়ে জুনিয়ার ও যুব বিভাগে জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার ছাড়পত্র পায়।২০১৭ সালে মে মাসে প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার জন্য চেক্ প্রজাতন্ত্রে পাড়ি দেয়। চেক্ প্রজাতন্ত্রে ২৭ তম মিট্ ফর শুটিং হোপে অংশ গ্রহন করে জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক শুটিংয়ে সপ্তম হয় বাংলা তথা বৈদ্যবাটীর মেয়ে মেহুলী ঘোষ। শুটিং হোপে ১২৩ জন শুটারের মধ্যে ফাইনালে উঠতে পেরেছিল ভারতের একমাত্র মেহুলী।

বাংলার আরো দুজন মহিলা শুটার তাঁরা ফাইনালে উঠতে সফল হয়নি। মেহুলী ফাইনালে ৪১৫ স্কোর করেছিল কিন্তু পদক জিততে পারেনি । বিশ্বের দশ জন ফাইনালিস্টের মধ্যে একজন মেহুলী। বর্তমানে মেহুলী ঘোষ ভারতের অলিম্পিযান শুটার জয়দীপ কর্মকারের অ্যাকাডেমির ছাত্রী, জাতীয় শিবিরে মেহুলী যে স্কোর করে থাকে, সেই স্কোর করেই ১০তম এশিয়ান এযারগান চ্যাম্পিয়ানশীপে সোনা তারপর কেরলে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের শুটিং চ্যাম্পিয়ানশীপে আটটি স্বর্ন পদক ও তিনটি ব্রোঞ্চ পদক এবং জাতীয় শিবিরে ভালো কোয়ালিফিকেশন স্কোরই মেহুলীকে কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ানশীপে খেলার সুযোগ করে দেয়।

গতকালই তাঁর নাম ঘোষন করে। মেহুলীর বাবা-মা কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ানশীপে খেলার সুযোগ পাওযায় খুশী এবং ছাত্রীর সাফল্যে উচ্ছসিত জয়দ্বীপ কর্মকার। মেহুলীর বাবা-মা তাকে খেলার বিষয় সব রকম সাহায্য করেন। সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবার হলেও মেয়ের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করেন সাধ্যমতো।

মেহুলী যে রাইফেলে শুটিং করে সেটা এ্যানাটমিক ওয়ালথার এক্সপার্ট LG 400 যার দাম প্রায় দুলাখ টাকা, বর্তমানে . 22 এ্যানসুস রাইফেলেও শুটিং করছে মেহুলী যার দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। যেটা এখনো কিনে উঠতে পারেননি। ব্যায়বহুল খেলা এয়ার রাইফেল শুটিং।

একমাত্র মেয়ের সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্য ও দেশের মুখ উজ্বল করার। তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মেহুলীর বাবা নিমাই ঘোষ ও মা মিতালী ঘোষ।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Banglahunt
Top