Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
নেই পানীয় জল! রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কটও, পাকিস্তানে প্রতিবাদে রাস্তায় জনতা

নেই পানীয় জল! রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কটও, পাকিস্তানে প্রতিবাদে রাস্তায় জনতা

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) বৃহত্তম শহর করাচি বর্তমানে এক বহুমুখী নাগরিক সঙ্কটের মুখোমুখি। পানীয় জল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের ঘাটতি একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় দৈনন্দিন জীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট চলছিল, কিন্তু এখন সেই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম এবং দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

ফলে কোটি মানুষের এই শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার অভাব জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জল, গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে পাকিস্তানে (Pakistan) প্রতিবাদে বিক্ষোভ জনতার:

করাচির বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাসের সরবরাহ এতটাই অনিয়মিত হয়ে পড়েছে যে অনেক পরিবার নিয়মিত রান্না করতে পারছেন না। শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস না পৌঁছনোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনছেন। যাঁদের সেই সামর্থ্য নেই, তাঁদের অনেকে বাইরে থেকে রান্না করা খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। গৃহস্থালির ব্যয় হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। নাগরিকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি।

গিলগিট-বালটিস্তানে হতে চলেছে নির্বাচন! সন্ত্রাস ছড়াতে জঙ্গি সংগঠনগুলির দ্বারস্থ পাক সেনা

পাকিস্তানের (Pakistan) সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও সমস্যার ব্যাপকতা এতটাই বেশি যে জনরোষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেডেরাল বি এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আসিফ জানিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্না করাই প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে এখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ শহরের আরও বহু এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। যদিও সুই সাদার্ন গ্যাস কোম্পানি জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেসব এলাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবুও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

জল সঙ্কটও করাচির নাগরিকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। শহরের বহু এলাকায় দিনের পর দিন পাইপলাইনে জল পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ। সাইমা বিবি নামে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, টানা তিন দিন তাঁদের এলাকায় এক ফোঁটা জলও আসেনি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে টাকা তুলে জলের ট্যাঙ্কার ভাড়া করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে সেই জলের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক পরিবার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ সীমিত করে জল সাশ্রয়ের চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি জল সঙ্কট জনস্বাস্থ্য সমস্যারও কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সঙ্কট। করাচির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফ্যান কিংবা পানীয় জল ঠান্ডা রাখার সুযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানা গেছে।

বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! পেট্রোল-ডিজেল সহ ATF-এ কমল রফতানি শুল্ক

বিশ্লেষকদের মতে, জল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের মতো মৌলিক পরিষেবার একযোগে সঙ্কট করাচির প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পাকিস্তানের (Pakistan) অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি খাতে ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। প্রশাসন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও নাগরিকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী দিনে বিক্ষোভ ও জনআন্দোলনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে করাচির সাধারণ মানুষের একটাই দাবি— মৌলিক পরিষেবার স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করে স্বস্তি ফিরিয়ে আনুক প্রশাসন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Banglahunt