বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোট গণনার (Election Result) দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। রাজ্যজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন-কে হাসবে শেষ হাসি ? ৪ই মে, সোমবার ঘোষণা হবে নির্বাচনের ফল, আর তার আগে স্ট্রংরুম ঘিরে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এই আবহেই ভবানীপুরের শাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুলের স্ট্রংরুমে পৌঁছে নজরদারির বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কার কথাও তুলেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন- কীভাবে হয় ভোটগণনা।
ভোট গণনার (Election Result) খুঁটিনাটি
প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকে রিটার্নিং অফিসারের উপর। নির্বাচন কমিশন এই আধিকারিককে নিয়োগ করে। তাঁর তত্ত্বাবধানেই পুরো গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।ভোট গ্রহণ ও গণনার দিনক্ষণ ঠিক করে নির্বাচন কমিশন। তবে কোন কেন্দ্রে গণনা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেন রিটার্নিং অফিসার। সাধারণত একটি জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা নির্দিষ্ট কয়েকটি কেন্দ্রে করা হয়। এই কাজে রিটার্নিং অফিসারকে সহায়তা করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা।
ভোটগণনার জন্য ধাপে ধাপে সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়। প্রথমে ইলেকট্রনিকালি পাঠানো পোস্টাল ব্যালট গণনা দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়। রিটার্নিং অফিসার সরাসরি এই ধাপের তদারকি করেন। গণনা শুরুর ৩০ মিনিটের মধ্যে পোস্টাল ব্যালট সম্পূর্ণ না হলেও, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইভিএম খোলার কাজ শুরু করতে হয়। এই সময় প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টরা গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারেন। প্রতিটি কেন্দ্রে এলোমেলোভাবে একটি VVPAT মেশিন বেছে নেওয়া হয় যাচাইয়ের জন্য। গণনাকেন্দ্রের মধ্যেই নির্দিষ্ট বুথে VVPAT স্লিপ গোনা হয়। শুধুমাত্র অনুমোদিত কর্মীরাই এই কাজ করতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পাঁচটি পোলিং বুথের VVPAT স্লিপ ইভিএম ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক। পুরো প্রক্রিয়াটি রিটার্নিং অফিসার ও তাঁর সহকারীদের নজরদারিতেই সম্পন্ন হয়।অনুমতি ছাড়া কেউ যেন গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে থাকবে কিউআর কোড।

প্রবেশের সময় একাধিকবার এই কোড স্ক্যান করে যাচাই করা হবে। শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, গণনাকর্মী, প্রযুক্তিগত কর্মী, প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদেরই প্রবেশের অনুমতি মিলবে। গণনা প্রক্রিয়া কঠোর নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়। একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় সঠিক ফলাফল।

