Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
রাস্তায় পাশের গাড়ির সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করবে আপনার বাহন! দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা কেন্দ্রের

রাস্তায় পাশের গাড়ির সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করবে আপনার বাহন! দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা কেন্দ্রের

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে পথ দুর্ঘটনা (Road Accidents) রোধে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক এমন একটি প্রস্তাব সামনে এনেছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের Connected Vehicle Technology ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল Vehicle-to-Vehicle (V2V) Communication System।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ অক্টোবর বা তার পরে তৈরি হওয়া সমস্ত নতুন গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে এই ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে হবে। নতুন AIS-230 মানদণ্ড অনুসারে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সরকারের বিশ্বাস, এক গাড়ি থেকে অন্য গাড়িতে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বহু দুর্ঘটনা আগেই এড়ানো সম্ভব হবে এবং দেশের সড়ক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

পথ দুর্ঘটনা (Road Accidents) এড়াতে বিশেষ প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা কেন্দ্রের

এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল রাস্তায় চলতে থাকা যানবাহনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। V2V সিস্টেমের সাহায্যে একটি গাড়ি আশেপাশে থাকা অন্য গাড়িগুলিকে নিজের গতি, অবস্থান, চলার দিক এবং অ্যাক্সিলারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুহূর্তের মধ্যে পাঠাতে পারবে। শুধু তাই নয়, কোনও গাড়ি যদি হঠাৎ জরুরি ব্রেক কষে, সামনে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয় অথবা পিছন থেকে অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল কিংবা অন্য কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসে, তাহলেও চালক আগেভাগেই সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন। ফলে চালকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বাড়বে এবং দুর্ঘটনার (Road Accidents) ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে।

এখন দেওয়া হবে না ভাতা! অগাস্ট মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ছাড়ার দিনক্ষণ সামনে এল

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, প্রায় সব ধরনের মোটরযানেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। L ক্যাটাগরির দুই ও তিন চাকার যানবাহন, এমনকি চার চাকার কোয়াড্রিসাইকেল, M ক্যাটাগরির যাত্রীবাহী যান এবং N ক্যাটাগরির পণ্যবাহী গাড়ি— সব ক্ষেত্রেই V2V ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে একই সড়কে চলা বিভিন্ন ধরনের যানবাহন একটি অভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নিতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরে এই প্রযুক্তি চালু হলে ভারতের সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

এই ব্যবস্থার জন্য প্রতিটি গাড়িতে একটি বিশেষ অনবোর্ড ইউনিট বসানো হবে। সেই ইউনিটে থাকবে রেডিও চিপ এবং একাধিক সেন্সর, যা গাড়ির চাকার গতি, স্টিয়ারিংয়ের কোণ, ব্রেকিংয়ের অবস্থা-সহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে। পরে সেই তথ্য ৫.৮৭৫ GHz থেকে ৫.৯২৫ GHz ফ্রিকোয়েন্সির বিশেষ রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে আশেপাশে থাকা অন্যান্য V2V-সক্ষম গাড়িতে পৌঁছে যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক সেকেন্ডেরও কম সময়ে সম্পন্ন হবে। ফলে চালক এমন পরিস্থিতির আগাম সতর্কবার্তা পাবেন, যা হয়তো খালি চোখে তখনও বোঝা সম্ভব নয়।

রিপাবলিক বাংলা ছাড়ছেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ? এক পোস্টে জল্পনা তুঙ্গে

এই প্রযুক্তি চালুর ভাবনার পিছনে রয়েছে দেশের উদ্বেগজনক পথ দুর্ঘটনার (Road Accidents) পরিসংখ্যান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করা, অসাবধানতাবশত গাড়ি চালানো এবং যান্ত্রিক ত্রুটির মতো নানা কারণ এখনও দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দুর্ঘটনা কমানোর দিকেই এখন জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, V2V Communication System কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ভারতের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসতে পারে এবং বহু মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Banglahunt