বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলা সিনেমা জগতে কালো টাকার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফলতার বিডিও শানু বক্সী এবং জাহাঙ্গির খানের কথোপকথন সামনে আসার পর থেকেই টলিউডে অর্থের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee) দাবি করেছেন, বহু বছর ধরেই বাংলা ছবিতে কালো টাকা ঢুকছে।
শুধু তাই নয়, টলিউডের কিছু বড় প্রযোজক ও তারকার ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
টলিউডে কালো টাকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হিরণের (Hiran Chatterjee)
এক সাক্ষাৎকারে হিরণ (Hiran Chatterjee) বলেন, ২০১১ সালের পর থেকেই বাংলা ছবিতে কালো টাকা ঢুকতে শুরু করে। তাঁর দাবি, এক সময় বাংলা ছবির অন্যতম পরিচিত এক প্রযোজকও এই ধরনের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং জেলেও যেতে হয়েছিল। যদিও সেই মামলার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে চাননি। হিরণের কথায়, এই সমস্যা আজকের নয়। বহু বছর ধরে টলিউডের ভিতরে এই প্রবণতা চলে আসছে এবং ইন্ডাস্ট্রির কিছু বড় নামও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
দেবকে নিয়েও মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে অভিনেতা ও সাংসদ দেবকেও নিশানা করেন হিরণ (Hiran Chatterjee)। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত এনামুল হকের কাছ থেকে দেব টাকা নিয়েছিলেন। পরে শুভেন্দু অধিকারীও এ নিয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন হিরণ। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট লুটের কারণে তিনি হেরেছিলেন। তবে ২০২৬ সালে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন বলেই রাজনৈতিক ফলাফল বদলেছে বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে, হিরণের এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে দেব কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
প্রযোজক ও অভিনেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
হিরণের (Hiran Chatterjee) অভিযোগ, প্রাক্তন শাসকদলের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে টলিউডের অনেক প্রযোজক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই সিনেমা এবং রাজনীতিকে একসঙ্গে ব্যবহার করেছেন। নাম না করে এক অভিনেত্রী-সাংসদেরও সমালোচনা করেন তিনি। হিরণের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ঘটনায় মুখ না খুলে রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে শিল্পীদের সম্মান কমেছে।
বাংলা সিনেমার বর্তমান অবস্থা
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হিরণ (Hiran Chatterjee)। তাঁর দাবি, এক সময় রাজ্যে প্রায় ৮৫০টি সিনেমা হল ছিল, যা এখন কমে প্রায় ১২০-তে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাংলা ছবির বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু প্রযোজক এবং ডিস্ট্রিবিউটরের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেও বাংলা সিনেমা শিল্প বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। একসময় যাঁরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন, এখন তাঁরাই আবার পরিবর্তনের কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বদলাবে কি পরিস্থিতি?
বিজেপি সরকারের আমলে টলিউডের পরিস্থিতি বদলাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে হিরণ (Hiran Chatterjee) জানান, এই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী এবং শান্তনু বসুকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, টলিউডকে ঘিরে পরিবর্তনের কাজ ধীরে ধীরে এগোবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলাবে এবং শিল্পের পরিবেশও নতুন রূপ পাবে বলেই তাঁর আশা।

