Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
টেক্কা দেবে এয়ারপোর্টকেও! জোরকদমে চলছে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন স্টেশনের কাজ, সামনে এল ছবি

টেক্কা দেবে এয়ারপোর্টকেও! জোরকদমে চলছে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন স্টেশনের কাজ, সামনে এল ছবি

বাংলাহান্ট ডেস্ক: একসময় যা ছিল শুধুই কল্পনা, তা এখন ধীরে ধীরে বাস্তবের রূপ নিতে শুরু করেছে। ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন (Bullet Train) চালুর প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০২৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকেই মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডরে দেশের প্রথম হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন চলাচল শুরু করতে পারে।

এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুজরাতের ভাদোদরা বুলেট ট্রেন স্টেশন, যেখানে নির্মাণকাজ এখন দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। স্টেশনের মূল কংক্রিট কাঠামোর কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে স্টিলের বিম ও স্তম্ভ বসানোর কাজ চলছে, যা স্টেশনের ছাদ, প্ল্যাটফর্ম এবং বহির্ভাগের কাঠামো নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জোরকদমে চলছে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন (Bullet Train) স্টেশনের কাজ:

ন্যাশনাল হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) জানিয়েছে, ভাদোদরা স্টেশনকে শুধু একটি আধুনিক রেলস্টেশন হিসেবে নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবহণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এখানে মাল্টি-লেভেল পার্কিং, এস্কেলেটর, লিফ্ট, প্রশস্ত ওয়েটিং লাউঞ্জ, ফুড কোর্ট এবং একাধিক বাণিজ্যিক আউটলেট তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে স্টেশনটিকে এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে ভারতীয় রেল, বাস টার্মিনাস এবং স্থানীয় পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে সহজ সংযোগ তৈরি হয়। ফলে এক পরিবহণ ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় যেতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে না (Bullet Train)।

রাস্তায় পাশের গাড়ির সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করবে আপনার বাহন! দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা কেন্দ্রের

ভাদোদরা স্টেশনের নকশাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় ঐতিহ্যকে। NHSRCL-এর দাবি, স্টেশনের স্থাপত্য, শিল্পকর্ম এবং বহির্ভাগের ডিজাইনে গুজরাতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। বিশেষ করে ভাদোদরার পরিচিত বটগাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে স্টেশনের কিছু নকশা তৈরি করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে স্টেশনটিকে শুধু যাত্রী পরিষেবার কেন্দ্র নয়, শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

হাই-স্পিড রেল স্টেশন নির্মাণ সাধারণ রেলস্টেশনের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। সেই কারণেই ভাদোদরায় ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি, ভারী ক্রেন এবং আধুনিক স্টিল ইরেকশন পদ্ধতি। এই প্রযুক্তির ফলে যেমন নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে, তেমনই ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘণ্টায় কয়েকশো কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা বুলেট ট্রেনের কম্পন সহ্য করার মতো সক্ষমতা এই স্টেশনের কাঠামোয় থাকবে। ফলে নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্ব—দুই ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গাড়ির ইন্স্যুরেন্স না থাকলে মিলবে না পেট্রোল-ডিজেল? কেন্দ্রকে ভাবনাচিন্তার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের

মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন (Bullet Train) করিডরে মোট ১২টি আধুনিক স্টেশন তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে ভাদোদরা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই প্রকল্প চালু হলে শুধু দুই শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না, বরং গুজরাতের ভাদোদরা ও সংলগ্ন অঞ্চলের অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হবে। সব মিলিয়ে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প শুধু দ্রুতগতির যাতায়াতের নতুন যুগের সূচনা করবে না, দেশের আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে চলেছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Banglahunt