বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫ অর্থবর্ষের আর্থিক তথ্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে ট্রাম্পের মোট আয় প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই বিপুল আয়ের উৎসের মধ্যে যেমন রয়েছে আবাসন ব্যবসা, গলফ রিসর্ট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, তেমনই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বিভিন্ন দেশে ট্রাম্প ব্র্যান্ড ব্যবহারের লাইসেন্স চুক্তির। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভারতের অবদান। রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র ভারত থেকেই ট্রাম্প পরিবারের কোষাগারে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে, যা তাঁর আন্তর্জাতিক আয়ের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের (Donald Trump) মোট আয়ে ভারতের অবদান নিয়ে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ট্রাম্প সংস্থার ব্যবসায়িক মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল 'লাইসেন্সিং'। এই ব্যবস্থায় কোনও নির্মাতা সংস্থা বা ডেভেলপার নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বিলাসবহুল আবাসন বা বাণিজ্যিক প্রকল্পে 'ট্রাম্প' নাম ব্যবহার করার অধিকার পায়। এই লাইসেন্স ফি থেকেই ২০২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন ট্রাম্প (Donald Trump)। বিশ্বের একাধিক দেশের পাশাপাশি ভারতেও এই ধরনের একাধিক প্রকল্প রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ছয়টি শহর থেকে সবচেয়ে বেশি লাইসেন্স ফি এসেছে। এর মধ্যে গুরুগ্রাম থেকে ৩.৬ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা ভারতের মধ্যে সর্বাধিক। এছাড়া দিল্লি থেকে ১.৮ মিলিয়ন ডলার, হায়দরাবাদ, নয়ডা এবং পুনে—প্রতিটি শহর থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলার করে এবং মুম্বই থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫০ ডলার আয় হয়েছে। ফলে ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজার ট্রাম্প পরিবারের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে শুধু ভারত নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকেও ট্রাম্পের ব্যবসায়িক আয় অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আবাসন প্রকল্পের লাইসেন্স চুক্তি থেকে দুবাইয়ে ট্রাম্প পরিবারের আয় হয়েছে প্রায় ১১.৭ মিলিয়ন ডলার। আবুধাবি থেকে এসেছে ১০ মিলিয়ন ডলার, সৌদি আরব থেকে ৯.২ মিলিয়ন ডলার এবং কাতারের রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৫.২৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ভিয়েতনাম, রোমানিয়া, তুরস্ক এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও ট্রাম্প ব্র্যান্ডের প্রকল্প থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের রাজস্ব এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা এবং বিলাসবহুল আবাসনের চাহিদাই এই আয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাম্প পরিবারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র এই খাত থেকেই তাঁদের আয় হয়েছে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো-বান্ধব নীতির ফলে এই খাতের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। ট্রাম্পের পুত্রদের সঙ্গে যুক্ত 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল' সংস্থা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে ৫২০ মিলিয়ন ডলার এসেছে ক্রিপ্টো টোকেন বিক্রি থেকে এবং ২৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি এসেছে সংস্থার অংশীদারিত্ব বিক্রি করে। পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজস্ব 'মিম কয়েন' থেকেও প্রায় ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার আয়ের দাবি করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক তথ্যগুলির একটি।

শিক্ষায় ডিজিটাল বিপ্লব! চর্চায় 'ওয়ান নেশন, ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি', জানুন APAAR-ABC-এর সুবিধা
এছাড়াও ট্রাম্প পরিবারের দীর্ঘদিনের গলফ কোর্স, রিসর্ট এবং আতিথ্য পরিষেবা সংক্রান্ত ব্যবসা থেকেও ২০২৫ সালে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের বিপুল সম্পদ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে ইতিমধ্যেই আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁর আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। যদিও ট্রাম্প (Donald Trump) শিবিরের দাবি, সমস্ত আয় বৈধ ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমেই এসেছে এবং আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে। তবে এই আর্থিক খতিয়ান প্রকাশের পর ভারতের মতো উদীয়মান বাজার যে ট্রাম্প পরিবারের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

