Tuesday, 08 Jan, 12.47 pm Bangla Live

জেনারেল নিউস
শৈশবে পিতৃহীন হান্টারওয়ালি শতাধিক বছর আগে চাবুকে শায়েস্তা করেছিলেন বিরূপ অদৃষ্টকেও

বিশাল ভরদ্বাজের ‘ রঙ্গুন ‘ আবার পর্দা সরিয়ে ফিরিয়ে এনেছিল চাবুকের সপাং শব্দ |

যে লিকলিকে চাবুক শোভা পেত এক হিলহিলে তরুণীর হাতে | তিরিশের দশকে সেই সুন্দরীর কল্যাণে হিন্দি ছবির অভিধানে ঢুকে পড়ে ফিয়ারলেস কথাটা |

পর্দায় চাবুক মেরে দুষ্টের দমন করলেও তাঁর নিজের জীবন ছিল প্রতিকূলতায় ভরা | সুন্দরীর নাম ছিল মেরি অ্যান ইভান্স | জন্ম হয়েছিল ১৯০৮ সালের ৮ জানুয়ারি, অস্ট্রেলিয়ার পারথে | বাবা স্কটিশ | মা গ্রিক | বাবা ছিলেন ব্রিটিশ সেনার স্বেচ্ছাসেবী |

১৯১৩ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট্ট মেরি অ্যান চলে আসে পারথ থেকে বম্বে | তার দু বছর পরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনীর হাতে নিহত হন অ্যানের বাবা | মায়ের হাত ধরে ছোট্ট শিশুকে চলে যেতে হয় বম্বে ছেড়ে পেশোয়ারে, সীমান্ত এলাকা খাইবার পাখতুনখোয়ায় |

ছোটবেলা থেকেই অ্যান ছিলেন অন্যরকম | পুতুল খেলনাবাটি ছেড়ে তার ভাল লাগত ঘোড়ায় চাপতে | পেশোয়ারে অ্যান নিজের চেষ্টায় রপ্ত করেন ঘোড়ায় চড়া, বন্দুক চালানো, শিকার করার মতো দুঃসাহসিক কাজ |

১৯২৮ সালে ফের বম্বে ফিরে আসেন অ্যান | সঙ্গে মা আর এক শিশুপুত্র | তার নাম রবার্ট জোন্স | সে কি অ্যানের ছেলে ? স্পষ্ট ভাবে জানা না গেলেও আভাস ছিল সেরকমই | কিন্তু পরে এর তার আর উল্লেখ নেই অ্যানের জীবনে |

বম্বে এসে ব্যালে শিখে দল খুললেন অ্যান | এরপর দুমুঠো খাবারের জন্য কী না করেছেন তিনি | ব্রিটিশ সেনা, ভারতীয় স্টেটের রাজার প্রাসাদ, গ্রামে গঞ্জের মেলায় ব্যালে নাচ দেখাতেন | সারা দেশ ঘুরে থিয়েটার করে বেরিয়েছেন | খেলা দেখিয়েছেন সার্কাসেও |

এক জ্যোতিষীর কথায় অ্যান ঠিক করলেন সিনেমায় অভিনয় করবেন | তখন ভারতীয় সিনেমার ঊষালগ্ন | জ্যোতিষীর পরামর্শে নাদিয়া নাম নিয়ে হিন্দি সিনেমায় অভিনয় শুরু করলেন অ্যান ইভান্স | তাঁকে প্রথম সুযোগ দেন জামশেস ওয়াদিয়া |

পোস্টারে তাঁর নাম লেখা হতো ফিয়ারলেস নাদিয়া বলে | নায়িকার অভিনয় তো বটেই | সমস্ত স্টান্ট নিজে করতেন তিনি | কোথাও ঘোড়ায় চেপে ছুটছেন | কোথাও চাবুক দিয়ে শায়েস্তা করছেন শত্রুকে |

‘ দেশ দীপক ‘ , ‘ খিলাড়ি ‘ , ‘ নূর এ ইয়াম ‘ নাদিয়ার একের পর এক সফল জনপ্রিয় সিনেমা | ১৯৩৫ সালে মুক্তি পায় নাদিয়ার সিনেমা ‘ হান্টারওয়ালি ‘ | সেখানে মুখোশ সমেত পোশাক পরে ঘোড়ায় চেপে এসে চাবুক মেরে কাবু করতেন খলনায়কদের |

পরবর্তীকালে জামশেদ ওয়াদিয়ার ভাই হোমি ওয়াদিয়াকে বিয়ে করেন নাদিয়া | ভারতীয় দর্শকের স্মৃতিতে থেকে যান হান্টারওয়ালি হয়েই | ১৯৯৬ সালের ৯ জানুয়ারি, ৮৮ বছর পূর্ণ করার ঠিক একদিন পরেই মেরি অ্যান ইভান্স ওরফে হান্টারওয়ালি নাদিয়া |

নাদিয়াকে নিয়ে লেখা হয়েছে বই | তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র | বিশাল ভরদ্বাজের পরিচালনায় ‘ রঙ্গুন ‘ -এ কঙ্গনার চরিত্র তাঁর আদলে তৈরি হোক বা না হোক, ফিরিয়ে তো এনেছে তাঁর স্মৃতি | সেটাই বা কম কী !

একবার ভেবে দেখুন আজ থেকে শতাধিক বছর আগে শৈশবে পিতৃহীন এক বালিকা কীভাবে জয়ী হয়েছিলেন জীবন সংগ্রামে | শুধু পর্দায় খলনায়ককে নয় | এই হান্টারওয়ালি চাবুক দিয়ে শায়েস্তা করেছিলেন নিজের বিরূপ অদৃষ্টকেও |

Dailyhunt
Top