Bangla Shasya Bima: পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাধারণত রাজ্যবাসীর জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নিয়ে এসেছেন। এবার রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য আরো এক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি যা কৃষকদের জন্য বিরাট উপকারী হতে চলে। এত রাজ্যবাসীর জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নিয়ে এসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার যে প্রকল্প কথা বলতে যাচ্ছি এটি কৃষকদের জন্য খুবই উপকারী।
যদিও রাজ্য সরকার এর আগেও কৃষক বন্ধু ভূমিহীন সহ আরো বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নতির সাধনের জন্য সহায়তা করেছেন কিন্তু এই প্রকল্প একটু অন্য ধরনের।
Bangla Shasya Bima হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি কৃষকবান্ধব উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম , যা ২০১৯ সালে চালু হয়।
সম্পর্কিত পোস্ট
এপ্রিলে দুই মাসের টাকা? যুবসাথী নিয়ে বড় খবর! দেখুন বিস্তারিত – WB Govt Yuba Sathi Scheme 2026
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কী কী-
ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কমানোর জন্য সহায়তা প্রদান করে থাকে
কৃষকদের আয়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে থাকে
চরম আর্থিক সংকট থেকে কৃষকদের রক্ষা করা হয়ে থাকে
কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হল অন্যতম লক্ষ্য
এই প্রকল্পে ফসল বপন থেকে ফসল কাটার পর পর্যন্ত সম্পূর্ণ সময়ের ঝুঁকি কভার হয়ে থাকে।
কোন কোন বিভাগ এই প্রকল্প পরিচালনা করে
এই প্রকল্পটি পরিচালনা করে-
কৃষি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: Agriculture Insurance Company of India Limited
অর্থাৎ, পুরো প্রকল্পটি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে তাই স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা অনেক বেশি হয়ে থাকে।
প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা দেখুন
বাংলা শস্য বীমা প্রকল্পের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল-
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বীমা পরিষেবা দেওয়া হবে
বড় কথা হলো কৃষকদের কোনো প্রিমিয়াম দিতে হয় না
সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম বহন করে রাজ্য সরকার এর তরফে
ফসল ক্ষতিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে
খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদিতে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়ে থাকে
খারিফ ও রবি-উভয় মরশুম কভার করে থাকে
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন
তবে এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে-
আবশ্যিক শর্ত
অবশ্যই আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
রাজ্যের সকল কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন
অন্তর্ভুক্ত কৃষক শ্রেণি সমূহ
ভূমির মালিক কৃষক হলে
ভাগচাষী হলে
ভাড়াটে কৃষক হলে
গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
কোন কোন ফসল এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে
রবি মরশুমের ফসল
বাংলা শস্য বীমা প্রকল্পে রবি মরশুমে অন্তর্ভুক্ত ফসলগুলি হল -
বোরো (গ্রীষ্মকালীন) ধান
গম চাষ
রবি ভুট্টা চাষ
গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা চাষ
ছোলা/বুট চাষ
মুসুর চাষ
মুগ
সরিষা চাষ
তিল চাষ
চিনাবাদাম
আলু চাষ
আখ চাষ
খেসারি।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র সমূহ
এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে-
ভোটার আইডি কার্ড
আধার কার্ড
জমির রেকর্ড থাকতে হবে
পাট্টা বা পাশবুক থাকতে হবে
জমি দখলের শংসাপত্র
চাষের প্রমাণ
চুক্তিপত্র (যদি থাকে)
নথিগুলি সঠিকভাবে জমা দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, কারণ এগুলির ভিত্তিতেই যাচাই করা হয়ে থাকে।
আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেখেনিন
বাংলা শস্য বীমা প্রকল্পে আবেদন করা খুবই সহজ বিষয়। নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতি দেওয়া হলো-
ধাপ ১: আবেদনপত্র সংগ্রহ
ধাপ ২: ফর্ম পূরণ
ধাপ ৩: নথি সংযুক্ত করা
ধাপ ৪: জমা দেওয়া
ধাপ ৫: যাচাই ও অনুমোদন
কীভাবে জানা যাবে টাকা পাবেন কিনা
বর্তমানে বহু কৃষকের একটাই প্রশ্ন থাকে-তারা টাকা পাবেন কিনা।
যদিও এই প্রকল্পে টাকা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে-
এলাকা ভিত্তিক ক্ষতি
কোনো এলাকায় ৫০% বা তার বেশি ফসল ক্ষতি হলে এর সুবিধা পাওয়া যাবে
সেই এলাকার সমস্ত বিমাকৃত কৃষক টাকা পেয়ে থাকে
অর্থাৎ, ব্যক্তিগত ক্ষতির উপর ভিত্তি করে নয়, বরং সামগ্রিক ক্ষতির ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হয়ে থাকে।
কেন অনেক সময় টাকা পাওয়া যায় না
অনেক কৃষক আবেদন করেও টাকা পান না। এর প্রধান কারণ গুলি হল-
এলাকায় পর্যাপ্ত ক্ষতি না হওয়া বা সরকারি ভাবে এর কোনো খবর না থাকা
এলাকায় ফসলের ক্ষতির হার ৫০% এর কম হওয়া
নথিতে ভুল থাকলে
জেলাভিত্তিক যোগাযোগ নম্বর
তবে প্রয়োজন হলে কৃষকরা নিচের নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করতে পারেন- জেলা ভিত্তিক নম্বর দেওয়া হয়েছে
আলিপুরদুয়ার: 06289587225
কোচবিহার: 06295875911
দার্জিলিং: 08927269866
জলপাইগুড়ি: 08974479937
মালদা: 09475981560
মুর্শিদাবাদ: 09851329984
নদিয়া: 09007923419
উত্তর দিনাজপুর: 07003582175
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: 06290884254
(অন্যান্য জেলার নম্বরও স্থানীয় অফিসে পাওয়া যেতে পারে) তবে এই নম্বর গুলি পরিবর্তন হতে পারে
হেল্পলাইন ও যোগাযোগ
সাধারণ বাংলা শস্য বীমা হেল্পলাইন
08373094071
08336900632
08336957181
রাজ্য সরকারের Bangla Shasya Bima প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য এক বিশাল সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। বিনামূল্যে বীমা, ফসলের ক্ষতিতে আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য স্কিমে পরিনত হয়েছে ।
বর্তমান সময়ে রাজ্যজুরে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে এই প্রকল্প বাংলার কৃষকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। তাই যারা এখনও এই প্রকল্পের আওতায় আসেননি, তাদের দ্রুত আবেদন করে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন
জন্ম সনদ ঘরে বসে অনলাইনে! কীভাবে আবেদন করবেন? দেখুন বিস্তারিত – WB Birth Certificate Online Apply 2026
