ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র অতিসক্রিয়তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যার মধ্যে ২২ লক্ষ নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যাদের নাম এখনও কাটা রয়েছে, তাদের রাস্তায় ধর্না না দিয়ে অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা রেখে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আইনি পথেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, দুটি সাম্প্রদায়িক দল বিচারকদের ঘেরাও করার মতো বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এর ফলে স্থানীয় সাধারণ যুবক-যুবতীরা অহেতুক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। বিচারকদের কাছে সরাসরি না গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অশান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে।
একইসঙ্গে এনআইএ-র ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্তের নামে বেছে বেছে ৪০ থেকে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন। ভোটারদের প্রতি তাঁর আহ্বান, তারা যেন ধৈর্য না হারিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি উপায়ে নিজেদের নাম তালিকায় ফেরানোর আবেদন করেন। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে ভোটার তালিকা সংশোধন ও গ্রেফতারি ইস্যু নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

