খড়গপুর সদর আসনের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, আইনি জটিলতা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। হলফনামা অনুযায়ী, দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগসহ মোট ২৮টি মামলা বর্তমানে ঝুলে রয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি কলকাতার একাধিক থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, ১৯৮০ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৮২ সালে আইটিআই পাস করা এই রাজনীতিকের বর্তমানে হাতে নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে তাঁর আমানতের পরিমাণ ২৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৮০৫ টাকা। অর্থাৎ তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮০৫ টাকা। এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষ ১.৮৮ একর কৃষিজমি এবং দু'টি ফ্ল্যাটের মালিক, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৮৯ টাকা।
বিগত বছরে দিলীপ ঘোষ বিজেপি নেত্রী রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তির বিবরণও স্পষ্ট করা হয়েছে। রিঙ্কু মজুমদারের হাতে নগদ ৫ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংকে প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। তাঁর ১৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৭০ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তবে তাঁর গয়না সংক্রান্ত কোনো তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির উত্থানের প্রধান কারিগর ছিলেন দিলীপ ঘোষ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর সাংগঠনিক নানা টানাপোড়েন কাটিয়ে খড়গপুর সদরে দল তাঁকে পুনরায় প্রার্থী করেছে। প্রবল আইনি চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা জয় করে তিনি মেদিনীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে পদ্ম ফোটাতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

