Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story

নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংঘাতের আবহে রাজভবনে বিধায়কদের তালিকা, বাংলায় পরিবর্তনের চূড়ান্ত কাউন্টডাউন

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন নবনির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজভবনে পৌঁছানোর মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার অনড় অবস্থান এক গভীর সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর. এন. রবির হাতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নামের গেজেট নোটিফিকেশন তুলে দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে নতুন বিধানসভা গঠনের পথে যাবতীয় আইনি বাধা দূর হয়েছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সম্পূর্ণভাবে রাজ্যপালের এক্তিয়ারভুক্ত।

বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আইনি মারপ্যাঁচ

এবারের নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। বিপরীতে, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে থমকে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, জনমত বিরোধী দলের পক্ষে যাওয়ার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কথা থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা না করায় জটিলতা বেড়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গেজেট বিজ্ঞপ্তি জমা পড়ার পর রাজ্যপাল চাইলে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে পুরনো মন্ত্রিসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকরহীন বা ভেঙে গিয়েছে বলে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

প্রশাসনিক রদবদল ও শপথের প্রস্তুতি

ক্ষমতার এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নবান্নে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমান মুখ্যসচিব ইতিমধ্য়েই অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নবান্নে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, যা ক্ষমতার হাতবদলের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, জয়ের আবহে বিজেপি শিবিরে এখন উৎসবের মেজাজ। আগামী ৮ মে বিকেলের মধ্যে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ৯ মে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও জনমানসে উৎকণ্ঠা

রাজ্যের এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘ মেয়াদে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিদায়ী শাসক দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং জয়ী দলের সরকার গঠনের প্রস্তুতির মাঝে সাধারণ মানুষের নজর এখন রাজভবনের দিকে। রাজ্যপাল এই সাংবিধানিক জট কাটাতে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেন কি না, কিংবা রাজভবন থেকে চূড়ান্ত ডাক কবে আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর নতুন সরকারের পথচলা শুরুর এই মাহেন্দ্রক্ষণ নিয়ে গোটা দেশ এখন কৌতূহলী।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Barta