ভারতবর্ষে বিয়ে মানেই বিশাল আয়োজন, গান-বাজনা আর এলাহি খাবারের সমারোহ। আমন্ত্রিত অতিথিদের পাত পেড়ে খাওয়ানো এখানে ঐতিহ্যের অংশ। তবে নেদারল্যান্ডসের বিয়েতে গেলে এই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। ডাচ বিয়েতে আমন্ত্রিতদের আপ্যায়নের ধরন এতটাই আলাদা যে, তা অনেক সময় সাংস্কৃতিক ধাক্কার মতো মনে হয়।
সেখানে ভারতের মতো সকল অতিথির জন্য সব আয়োজন উন্মুক্ত থাকে না।
ডাচ বিয়ের প্রথা অনুযায়ী অতিথিদের প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। প্রথম স্তরে থাকেন 'ডে গেস্টস', যারা মূলত পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও প্রিয় বন্ধু। তারা সারাদিনের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন। দ্বিতীয় ধাপে থাকেন 'রিসেপশন গেস্টস', যাদের কাজ শুধু দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানানো এবং কেক বা হালকা স্ন্যাকস খেয়ে বিদায় নেওয়া। তৃতীয় পর্যায়ে থাকেন 'ইভনিং গেস্টস', যারা মূলত সহকর্মী বা পরিচিত এবং কেবল রাতের পার্টি ও নাচে অংশ নিতে পারেন।
এই ভিন্নধর্মী প্রথার পেছনে কাজ করে মূলত বাস্তববাদী চিন্তা। নেদারল্যান্ডসে বিয়ের যাবতীয় খরচ সাধারণত পাত্র-পাত্রী নিজেরাই বহন করেন। ব্যয় কমাতে এবং শৃঙ্খলার খাতিরেই তারা অতিথিদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী নিমন্ত্রণপত্র পাঠান। কার জন্য ডিনার বরাদ্দ আর কার জন্য নয়, তা কার্ডেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এটি অস্বাভাবিক মনে হলেও ডাচ সংস্কৃতিতে এটিই অত্যন্ত স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় রীতি।

