জনপ্রিয় অভিনেত্রী মোনালিসা সম্প্রতি এক পডকাস্টে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অধ্যায় নিয়ে অকপট আলোচনা করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে তাঁর মাতৃত্ব নিয়ে সমাজ ও অনুরাগী মহলে যে গুঞ্জন ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যের প্রকৃত সত্য সামনে এনেছেন তিনি। ২০১৭ সালে বিগ বস ১০-এর সেটে বিক্রান্ত সিং রাজপুতকে বিয়ের পর ৯ বছর কেটে গেলেও কেন তিনি মা হননি, সেই নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটালেন ৪৩ বছর বয়সী এই তারকা।
শারীরিক গঠন রক্ষার ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা
অভিনয় জগতের গ্ল্যামার ধরে রাখতেই মোনালিসা সন্তান নিচ্ছেন না-এমন একটি ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল ছিল। অনেকে মনে করতেন, গর্ভাবস্থায় শারীরিক গড়ন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়েই তিনি মাতৃত্ব থেকে দূরে থাকছেন। তবে এই পডকাস্টে মোনালিসা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি মাতৃত্বের স্বাদ পেতে আগ্রহী এবং বর্তমানে এক জটিল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
সংগ্রামের চার বছর ও চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মোনালিসা জানান, তিনি গত চার বছর ধরে সন্তান ধারণের চেষ্টা করছেন। এই সময়কালে তাঁকে অত্যন্ত কঠিন চিকিৎসা এবং নিয়মিত ইনজেকশনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তাঁর সাম্প্রতিক শারীরিক পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেই তাঁকে আগের তুলনায় কিছুটা ভারী বা স্বাস্থ্যবান দেখাচ্ছে। এটি কোনো অবহেলা নয়, বরং মা হওয়ার সংগ্রামের একটি অংশ।
সামাজিক ও পারিবারিক চাপ
একজন সফল অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে তাঁকে নিয়মিত সামাজিক ও পারিবারিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে শ্বশুরবাড়ি থেকে আসা প্রত্যাশা এবং সাধারণ মানুষের কৌতূহলী প্রশ্ন তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। মোনালিসার মতে, মানুষ তাঁর ভেতরের লড়াইটা না বুঝেই মন্তব্য করে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
অপেক্ষা ও ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস
একাধিক চিকিৎসক পরিবর্তন করেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি মোনালিসা। তবে তিনি হাল ছাড়তে নারাজ। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজেকে দায়ী না করে ভাগ্যের ওপর ভরসা রাখছেন। তাঁর বিশ্বাস, সবকিছুই ঈশ্বরের ইচ্ছাধীন এবং সঠিক সময়েই তিনি মাতৃত্বের স্বাদ পাবেন।
একঝলকে
* অভিনেত্রী মোনালিসা গত ৪ বছর ধরে সন্তান ধারণের জন্য কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
* শারীরিক গঠন নষ্ট হওয়ার ভয়ে সন্তান না নেওয়ার দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
* ওষুধ ও ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই বর্তমানে তাঁর ওজন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
* পরিবার ও সমাজের পক্ষ থেকে মাতৃত্ব নিয়ে ক্রমাগত চাপের মুখে রয়েছেন তিনি।
* কঠিন সময় চললেও তিনি ঈশ্বরের ওপর আস্থা রেখে সুদিনের অপেক্ষা করছেন।

