ভোট-পরবর্তী সরগরম আবহে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা। আর সেই নিরাপত্তার তদারকি করতে গিয়েই শুক্রবার এক অন্য মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ছেলেবেলার স্মৃতিতে ডুব দিলেন, তেমনই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দাগলেন তীব্র রাজনৈতিক গোলা।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এখন 'দুর্গ'
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কুণাল ঘোষের দাবি, গতরাতের প্রতিবাদের পর আজ ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের চেহারা বদলে গিয়েছে। এলাকাটি এখন আক্ষরিক অর্থেই এক 'দুর্গ'। এদিন সকালেও একবার গিয়েছিলেন, বিকেলেও ফের পৌঁছে যান তিনি। ভেতরে ঢুকে সিসিটিভি (CCTV) ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। দলের সহকর্মীরাও যে প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
খেলনা গাড়ি বনাম আসল সাঁজোয়া গাড়ি
এদিন সিআরপিএফ (CRPF)-এর একটি বিশাল সাঁজোয়া গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন কুণালবাবু। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, 'ছেলেবেলায় আমার এমন একটি খেলনা গাড়ি ছিল। আজ আসল গাড়ি দেখে কায়দা মেরে ছবি তোলার ইচ্ছে সামলাতে পারলাম না।' ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর কড়া পাহারার মাঝেই হাসিমুখে পোজ দিচ্ছেন তিনি।
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ
তবে শুধু স্মৃতিতর্পণ নয়, সুযোগ বুঝে বিজেপিকে তুলোধনা করতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ। মণিপুর থেকে কাশ্মীর- একের পর এক ইস্যু টেনে আনেন তিনি। তাঁর কথায়, 'কাশ্মীরে জঙ্গিহানা চলতে থাকে, পুলওয়ামা-উরি হতেই থাকে, মণিপুর জ্বলতে থাকে; আর বিজেপি সেনা নামায় বাংলায়।' বাংলার মানুষকে 'ভয়' দেখানোর এই চেষ্টার জবাব সোমবার ইভিএম খুললেই পাওয়া যাবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার আগে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৃণমূল যে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ, কুণাল ঘোষের এই ঘন ঘন পরিদর্শন তারই প্রমাণ। এখন নজর সোমবারের দিকে, জনতা জনার্দন শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেয়।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
The post স্মৃতি বনাম রাজনীতি! স্ট্রং রুমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ির সামনে কুণাল, বিজেপিকে দিলেন কড়া জবাব appeared first on বার্তা.in.

