২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সবকটি বুথেই ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচনের (Fresh Poll) বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কমিশনের এই কড়া সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্র এবং কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার মডেল ও 'গুজরাটি লবি' বিতর্ক
কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তির পরেই সামাজিক মাধ্যমে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, "বাংলা-বিরোধী গুজরাটি গ্যাং এবং তাদের দালালেরা ১০ জন্ম চেষ্টা করলেও ডায়মন্ড হারবার মডেলে দাঁত ফোটাতে পারবে না।" তিনি কার্যত ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ভারত সরকার তাদের সমস্ত শক্তি নিয়ে ফলতায় আসুক। এমনকি দিল্লির কোনো 'গডফাদার' যদি সাহস থাকে তবে ফলতায় প্রার্থী হয়ে লড়াই করে দেখান। অভিষেকের দাবি, এই লড়াই কেবল ভোটের নয়, বরং এটি একটি বড় মাপের স্নায়ুর লড়াই হতে চলেছে।
কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ও তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ফলতায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন রিগিং ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। তার ভিত্তিতেই পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের এই বেনজির সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এর বিরোধিতায় সরব হয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটের দিন বিশাল আধা সেনা ও 'সিংঘম' খ্যাত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা থাকা সত্ত্বেও কেন কমিশন কারচুপি ধরতে পারল না? কুণাল ঘোষ সরাসরি পর্যবেক্ষকের সাসপেন্ড দাবি করে বলেন, "ততক্ষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৩০টির বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়ে ফেলবেন এবং ফলতাতেও তৃণমূলেরই জয় হবে।"
ভোট ও গণনার নতুন সূচি
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফলতার ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে এবং এই কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে। ৪ মে রাজ্যের বাকি আসনগুলোর ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ফলতার এই পুনর্নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এই লড়াইকে তাদের মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে কমিশনের বড় জয় হিসেবে গণ্য করছে।

