দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিবেশী দেশে ক্ষমতার রদবদল হলেও পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। বরং মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তীকালে বিএনপির প্রভাবাধীন জমানায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার ও অরাজকতা চরম আকার ধারণ করেছে।
বিশেষ করে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণ বন্ধ ও উদ্যোক্তার গ্রেফতার এবং মসজিদ-মাদ্রাসার মাধ্যমে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার পরিবেশ তৈরির বিষয়টি নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় ২৬১ জন সংখ্যালঘু মানুষ আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬২টি উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নারী নির্যাতন, অপহরণ ও সম্পত্তির দখলের মতো অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে 'মব-সন্ত্রাস' বা গণপিটুনির মতো ঘটনা মাথাচাড়া দিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩,১০০টিরও বেশি হিংসাত্মক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে ৬২টি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

