পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় তৈরি হয়েছে। বুধবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর. এন. রবির হাতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নামের তালিকা সম্বলিত সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন জমা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। এই সাংবিধানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যে নতুন বিধানসভা গঠনের আইনি পথ প্রশস্ত হলেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সংবিধান বনাম অনড় অবস্থান
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট বিজ্ঞপ্তি জমা পড়ার পর সরকার গঠনের দায়ভার এখন সম্পূর্ণভাবে রাজভবনের ওপর। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তৃণমূল নেত্রী এখনও গদি না ছাড়ার অবস্থানে অনড়। এই ঘটনা রাজ্যে এক গভীর সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাজ্যপাল সরকার গঠনের আহ্বান জানালেই পুরনো মন্ত্রিসভা আইনিভাবে বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।
নবান্নে রদবদল ও শপথের প্রস্তুতি
ক্ষমতার এই পালাবদলের আবহেই প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমান মুখ্যসচিব ইতিমধ্য়েই নবান্নে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরে এখন সাজ সাজ রব। ৮০টি আসনে থমকে যাওয়া তৃণমূল যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে, তখন বিজেপি তাদের পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী ৯ মে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তুঙ্গে থাকলেও, রাজনৈতিক মহলের নজর এখন রাজভবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। এই সাংবিধানিক অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্যপাল কী ভূমিকা নেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
