বিহার ও মধ্যপ্রদেশের উপনির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘদিনের 'নিরাপদ দুর্গ' হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতে এই অপ্রত্যাশিত হার দলটির অন্দরে অস্বস্তি ও নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকের বিমুখ হওয়া এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষই এই পরাজয়ের মূল কারণ।
এনডিএ-র শরিক দলগুলো এই ফলাফলকে বিজেপির অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ও জনগণের প্রতি উদাসীনতার ফল হিসেবে দেখছে।
বিহারের বাঁকিপুর এবং মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া-উভয় কেন্দ্রেই পরাজয়ের পেছনে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। ১৯৯৫ সাল থেকে বিজেপির দখলে থাকা বাঁকিপুর আসনে নীতিন নবীনের প্রস্থান এবং পরবর্তীতে প্রার্থী নিয়ে বারবার রদবদল ও এক নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে ভোটাররা ক্ষুব্ধ হন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে বর্ষীয়ান নেতা নরোত্তম মিশ্রকে সরিয়ে তরুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া এবং তার জেরে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলের পরাজয় ত্বরান্বিত করে। এই ফলাফলের পর বিহারের রাজ্য নেতৃত্ব বিশেষত সম্রাট চৌধুরীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন 'জন সুরাজ' প্রধান প্রশান্ত কিশোর, যিনি এই উপনির্বাচনকে বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে 'গণভোট' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
