Dailyhunt
বিস্ফোরক রিপোর্ট: বিহারের ফুটেজ থেকে ক্যামেরা গায়েব! ফলতায় বেনজির পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ কমিশনের

বিস্ফোরক রিপোর্ট: বিহারের ফুটেজ থেকে ক্যামেরা গায়েব! ফলতায় বেনজির পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ কমিশনের

Bartaman 2 weeks ago

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র ৩৬ ঘণ্টা আগে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সবকটি (২৮৫টি) বুথেই ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে ২৪ মে।

বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক আগে একটি গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করার এমন ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি।

কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত?

২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতার বুথে বুথে ইভিএমের বোতামে আঠা লাগানো বা আতর মাখানোর অভিযোগ উঠেছিল। তবে কমিশনের আসল কড়াকড়ির কারণ হলো স্ক্রুটিনি রিপোর্ট। বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের জমা দেওয়া রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:

  • গায়েব সিসিটিভি ফুটেজ: রিটার্নিং অফিসার যে চিপ জমা দিয়েছেন, তার অনেকগুলিই ছিল ফাঁকা। অন্তত ৩৪টি বুথের ফুটেজ হয় বিকৃত করা হয়েছে অথবা পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
  • বিহারের ভিডিও: সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ফলতার সিসিটিভি ফুটেজের বদলে কোনো কোনো বুথের রেকর্ডিংয়ে বিহারের নির্বাচনের দৃশ্য মিলেছে। যা প্রমাণ করে যে কারচুপি লুকোতে ডেটা বদলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
  • ভুয়া স্ক্রুটিনি: জেনারেল অবজার্ভার ও রিটার্নিং অফিসাররা অভিযোগকারী প্রার্থীদের না ডেকেই একতরফা স্ক্রুটিনি সেরেছিলেন এবং শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারদের নোটের ওপর ভরসা করেছিলেন।

প্রভাবিত বিপুল সংখ্যক ভোটার

কমিশনের মতে, ফলতা কেন্দ্রের অন্তত ২১ শতাংশ বুথ এবং ২২.৮২ শতাংশ ভোটার সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। ইভিএমে আঠা বা টেপ লাগানোর ঘটনা যখন ধরা পড়ে, ততক্ষণে ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বুথের ভেতরে রাজনৈতিক ক্যাডারদের বেআইনি ভিড় এবং একাধিক ব্যক্তিকে একসঙ্গে ইভিএম কাউন্টারে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির বিচারেই পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

শাসক দলের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় ক্ষোভ

কমিশনের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান জানিয়েছেন, 'আইন আইনের পথেই চলবে'। তবে এলাকায় উত্তেজনা কমেনি। শনিবারই ফলতার হাসিমনগরে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল চাকদারের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পাশাপাশি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফলাফল পরিষ্কার হয়ে গেলেও ফলতার ভাগ্য নির্ধারিত হবে ২৪ মে, যা এই নির্বাচনের এক অনন্য নজির হয়ে রইল।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Bartaman