পবিত্র শ্রাবণ মাসে দেবাদিদেব মহাদেবকে সন্তুষ্ট করতে জলাভিষেককে অন্যতম পবিত্র উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় বিষ পান করে নীলকণ্ঠের দেহ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁকে শীতল করার উদ্দেশ্যেই শিবলিঙ্গে জল ঢালার প্রথা শুরু হয়েছিল। শ্রাবণ মাসে এই পূজার মাহাত্ম্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং ভক্তরা কোনো বিশাল আয়োজন ছাড়াই শুদ্ধ মনে এক ঘটি জল অর্পণ করে মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন।
ঘরে জলাভিষেকের জন্য শিবলিঙ্গ বা মহাদেবের ছবির পাশাপাশি শুদ্ধ জল, গঙ্গার জল, বেলপাতা, সাদা ফুল, চন্দন, অক্ষত, ধূপ-প্রদীপ এবং ঋতুভিত্তিক ফল ও মিষ্টি প্রয়োজন হয়। পূজার ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে স্নান শেষে পরিষ্কার পোশাক পরিধান, ভক্তিভরে শিবলিঙ্গে জল বা পঞ্চামৃত নিবেদন, 'ওঁ নমঃ শিবায়' বা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ এবং পরিশেষে চন্দনের তিলক, ফুল ও বেলপাতা অর্পণ করে আরতি করা। তবে এই পূজার সময় বাসি বা ছেঁড়া বেলপাতা, শুকনো ফুল ব্যবহার করা এবং অপরিষ্কার হাতে পূজা করা নিষিদ্ধ। এছাড়া পূজার সময় কর্কশ ভাষা ব্যবহার ও প্রসাদ অপচয় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

