রাইফেল হাতে ছবি পোস্টের জেরে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি গৌতম দাসের অপসারণ এবং সাসপেনশন নিয়ে যখন শোরগোল তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়ের নিয়োগ নিয়ে দানা বাঁধল বড় বিতর্ক। নতুন ওসির নিয়োগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে 'বিচারাধীন মামলার' অভিযোগ তুলল বিজেপি।
এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP) অজয় কুমার নন্দকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ অগ্রবাল।
বিজেপি প্রার্থীর বিস্ফোরক দাবি
পূর্ব বর্ধমানের মেমারি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে দাবি করেন যে, নতুন ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায় একটি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত এবং সেই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাঁর প্রশ্ন, একজন অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া যায়? তিনি চামেলির সঙ্গে 'আসামি' শব্দটি জুড়ে দিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
বিজেপির এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়েছে কমিশন। সিইও মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, "কালীঘাট থানার নতুন ওসি নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ওই ওসির বিরুদ্ধে যে কোনো অভিযোগ রয়েছে, তা কমিশনের আগে জানা ছিল না।" তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলা থাকে, তবে নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভোটের কাজে থাকতে পারবেন না।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি গৌতম দাসের একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে অত্যাধুনিক রাইফেল হাতে নিজের চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তৃণমূল কংগ্রেস এই ছবিটিকে 'আপত্তিকর' এবং 'ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা' বলে অভিযোগ করে। শনিবার সকালে গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করে কলকাতা পুলিশ এবং তাঁর জায়গায় চামেলি মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এখন নতুন ওসির বিরুদ্ধে মামলা থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন ফের কালীঘাটের ওসির পদ পরিবর্তন করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। ভোট গণনার ঠিক আগের মুহূর্তে কালীঘাট থানার মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় এমন 'ওসি বদলের খেলা' প্রশাসনের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।

