কেরল বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রীর গদি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি কংগ্রেস শিবিরে। অন্য রাজ্যগুলোতে নতুন সরকার শপথ নিলেও দক্ষিণের এই রাজ্যে ইউডিএফ জোটের অন্দরে কুর্সির লড়াই এখন চরমে। মূলত হাইকম্যান্ডের ঘনিষ্ঠ কে সি বেণুগোপাল এবং বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টি আসনে জয়লাভ করে ইউডিএফ অভাবনীয় সাফল্য পেলেও সরকার গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নেতৃত্ব সংকট।
কুর্সির লড়াইয়ে বেণুগোপাল বনাম সতীশন
দিল্লির হাইকম্যান্ডের তরফে কে সি বেণুগোপালের পাল্লা ভারী বলে মনে করা হচ্ছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেরলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, সিংহভাগ নেতাই বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে আগ্রহী। অন্যদিকে, কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের একটি অংশ মনে করছে ভি ডি সতীশনই এই জয়ের আসল কারিগর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা এই দৌড় থেকে অনেকটা ছিটকে গেলেও বেণুগোপাল ও সতীশনের দ্বৈরথ এখন প্রকাশ্য কোন্দলে রূপ নিয়েছে।
কর্মীদের বিদ্রোহ ও রাহুল প্রিয়াঙ্কাকে লক্ষ্য করে বার্তা
দিল্লির সিদ্ধান্তে খুশি নন কেরলের সাধারণ কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁদের দাবি, তৃণমূল স্তরে পরিশ্রম করে দলকে জেতানো সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাতে হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টার ও ব্যানার টাঙিয়ে কর্মীরা সাফ জানিয়েছেন যে, সতীশনকে অবজ্ঞা করলে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে তাঁদের আসন ‘ওয়ানড়’ ভুলে যেতে হবে। কর্মীদের এই সরাসরি হুঁশিয়ারি দিল্লির নেতৃত্বের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে এই দীর্ঘসূত্রতা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে রাজ্যে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিদায়ী এলডিএফ জোট ৩৫টি আসন পেলেও বিরোধী হিসেবে তারা এই অস্থিতিশীলতাকে হাতিয়ার করতে পারে। রাহুল গান্ধী দলের অভ্যন্তরীণ রোড শো এবং শক্তি প্রদর্শন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলে জয়ের আনন্দ শেষ পর্যন্ত অন্তর্কলহে ম্লান হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মূলত দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন হাইকম্যান্ডের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

