ভোটের লড়াই শেষ হলেও উত্তাপ কমেনি মালদহে। ফলাফল পরবর্তী হিংসা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে জেলা প্রশাসন। শান্তি বজায় রাখতে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বজায় রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে জেলার হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীদের পুলিশি নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
বুধবার জেলা প্রশাসনিক ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে এই ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত
মালদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৪১ জন নেতা-নেত্রীকে সরকারিভাবে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া রয়েছে। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে সাংগঠনিক স্তরের নেতাদের কারোর ২ জন, আবার কারোর জন্য ৪ জন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন থাকে। অন্যদিকে, বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদদের সুরক্ষায় রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ সুপার অনুপম সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ৪১ জনের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে মূল্যায়ন (Assessment) করা হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কার নিরাপত্তা বহাল রাখা হবে আর কার নিরাপত্তায় কোপ পড়বে।
শান্তি রক্ষায় মোতায়েন ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
গণনা পরবর্তী বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলায় ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিয়মিত রুট মার্চ ও টহলদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়ালে কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজয় মিছিল বা জমায়েত থেকে যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশি নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ দূর করাই এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার।

