ভোট মিটলেও অশান্তির আঁচ কমেনি ফলতায়। এবার সেখানে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২৯ এপ্রিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে যে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। আগামী ২১ মে ওই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই পুনরায় ভোট নেওয়া হবে।
ফলে আগামী ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফলাফল ঘোষণা হলেও, ঝুলে থাকবে ফলতার ভাগ্য।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
কমিশন সূত্রে খবর, ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোট চলাকালীন ইভিএম জালিয়াতি এবং ভোটারদের বাধা দেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়েছিল। কমিশনের পর্যবেক্ষক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের রিপোর্টে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:
- ইভিএম জালিয়াতি: অন্তত ৬০টি বুথে ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রতীকের ওপর 'কালো আঠা' বা 'টেপ' লাগিয়ে বোতাম অকেজো করে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। কোথাও আবার বোতামে সুগন্ধি লাগিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
- ভোটারদের হুমকি: ফলতার হাসিমপুর-সহ একাধিক এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ঘনিষ্ঠ ৩ কর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
- ভিডিও ফুটেজের অভাব: বেশ কিছু স্পর্শকাতর বুথে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি অথবা তা অস্পষ্ট ছিল, যা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নতুন সূচি ও গণনার দিনক্ষণ
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভার জন্য নতুন সময়সূচি নিম্নরূপ:
- ২১ মে (বৃহস্পতিবার): ফলতার সমস্ত ২৮৫টি বুথে ফের ভোটগ্রহণ হবে (সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা)।
- ২৪ মে (রবিবার): ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা হবে।
- ৪ মে (সোমবার): রাজ্যের বাকি ২৯৩টি কেন্দ্রের ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশিত হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফলতায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে যে, ফলতায় প্রহসনের ভোট হয়েছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২১ মে পর্যন্ত ফলতায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা নিজে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করছেন।
বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে একই বিধানসভা কেন্দ্রে ফল প্রকাশের তিন সপ্তাহ পর পুনরায় ভোটগ্রহণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। আগামী ৪ মে রাজ্যের শাসনক্ষমতা কার হাতে যাবে তা স্পষ্ট হয়ে গেলেও, ফলতার প্রতিনিধি কে হবেন তা জানতে আরও বেশ কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে রাজ্যবাসীকে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

